
চট্টগ্রামের টাইগারপাস। সোমবার দুপুর দুটো। রোদের মধ্যে দাঁড়িয়ে আছেন একদল তরুণ। তাঁরা এসেছেন জুলাই অভ্যুত্থানের গ্রাফিতি নতুন করে লিখতে। সেই মুহূর্তে ঘটে গেল এক অপ্রত্যাশিত ঘটনা।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার (উত্তর) আমিরুল ইসলাম নিজে মাঠে উপস্থিত থেকে পরিস্থিতি সামলাচ্ছিলেন। ঠিক সেই সময়ে তিনি একজন নারী শিক্ষার্থীর গায়ে হাত তোলেন। এই ঘটনা মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে।
যে পুলিশ কর্মকর্তার কথা বলা হচ্ছে, তিনি কিছুক্ষণ আগেই গণমাধ্যমকে বলেছিলেন, জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তিনি মাঠে আছেন। আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার অনুরোধ করেছিলেন সবাইকে। অথচ সেই একই মানুষের হাত উঠল একজন নারী শিক্ষার্থীর দিকে।
যেখান থেকে শুরু
ঘটনার শিকড় গত রোববার রাত ১১টায়। টাইগারপাস এলাকায় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রবেশমুখে জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থানের স্মৃতিবিজড়িত গ্রাফিতি মুছে ফেলার অভিযোগ ওঠে। এই অভিযোগকে কেন্দ্র করে এনসিপি ও বিএনপির স্থানীয় নেতাদের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা দেখা দেয়। দুই পক্ষ পাল্টাপাল্টি স্লোগান দেয়। পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে সাময়িকভাবে।
কিন্তু রাতের সেই অগ্নিস্ফুলিঙ্গ পুরোপুরি নেভেনি। ভোর হয়ে সোমবার আসতেই টাইগারপাস, লালখান বাজারসহ আশপাশের এলাকায় আবার জমতে শুরু করে উত্তেজনা। সকাল থেকেই রাস্তায় নামেন তরুণেরা। তাঁদের দাবি একটাই, জুলাই অভ্যুত্থানের স্মৃতি মুছে দেওয়া চলবে না।
গ্রাফিতি না পোস্টার, বিতর্ক সেখানেও
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন পরিষ্কার জানিয়েছেন, গ্রাফিতি মোছার কোনো নির্দেশ তিনি দেননি, ভবিষ্যতেও দেবেন না। তাঁর বক্তব্য, পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা নিয়মিত কাজের অংশ হিসেবে পোস্টার অপসারণ করেছেন। পোস্টারের আড়ালে ঢাকা পড়া কিছু গ্রাফিতি হয়তো সেই সময় দৃশ্যমান ছিল না। কিন্তু অনেক পিলারে গ্রাফিতি এখনো আছে, মোছা হয়নি।
মেয়র আরও জানিয়েছেন, জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের চেতনা তিনি ধারণ করেন। দীর্ঘ ১৭ থেকে ১৮ বছর ধরে তিনি আন্দোলনের মাঠে আছেন। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের শিক্ষার্থীরা গ্রাফিতি আঁকতে এলে তিনি নিজে সহায়তা করেছেন।
কিন্তু মেয়রের এই বক্তব্য মাঠের উত্তেজনা কমাতে পারেনি।
পরিস্থিতি সামলাতে সোমবার সকালেই সিএমপি কমিশনার হাসান মোহাম্মদ শওকত আলী গণবিজ্ঞপ্তি জারি করেন। জিইসি মোড় থেকে দেওয়ানহাট ফ্লাইওভার পর্যন্ত সব ধরনের সভা-সমাবেশ, মিছিল ও মিটিং নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। রাস্তায় মোতায়েন হয় বিপুলসংখ্যক পুলিশ।
নিষেধাজ্ঞার শহরে তবু থামেননি শিক্ষার্থীরা।