
‘একটি দায়িত্বশীল ও সুস্থ জাতি গঠনে ক্রীড়ার কোনো বিকল্প নেই। খেলাধুলা আমাদের বাস্তব জীবনের অনেক গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দেয়। জয়কে কীভাবে উপভোগ করতে হয়, পরাজয়কে কীভাবে মেনে নিতে হয়—এসব আমরা খেলাধুলার মাধ্যমেই শিখি।’ এভাবেই তরুণ সমাজকে খেলাধুলায় সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।
সোমবার (১৮ মে) চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত ‘আন্তস্কুল ক্রিকেট টুর্নামেন্ট-২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কার্যালয় ও উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সহযোগিতায় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাজমুল হাসান।
জেলা প্রশাসক বলেন, মানুষের জীবন ও খেলাধুলার মধ্যে অনেক মিল রয়েছে। জীবনে যেমন সবসময় সুখ বা ভালো সময় থাকে না, তেমনি খেলাধুলাতেও সবসময় জয় আসে না। জয়-পরাজয় মিলিয়েই প্রতিটি খেলা। তবে পরাজয়ের পর নিজেকে গুটিয়ে না নিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার মানসিকতাই একজন মানুষকে সফলতার পথে নিয়ে যায়। যদি কেউ পরাজয়ের পর নিজেকে গুটিয়ে নেয়, তাহলে সে সত্যিকার অর্থে হেরে যায়। কিন্তু যদি সে নিজের চেষ্টা ধরে রাখে, তাহলে তার জয় অনিবার্য।
বর্তমান বিশ্বকে প্রতিযোগিতাপূর্ণ উল্লেখ করে ডিসি বলেন, যার যত দক্ষতা ও নেতৃত্ব দেওয়ার সক্ষমতা রয়েছে, তার নিজের যোগ্যতা প্রমাণের সুযোগও তত বেশি। এজন্য কঠোর পরিশ্রম, অধ্যবসায় ও স্বপ্নকে ধারণ করে নিজেকে গড়ে তুলতে হবে। পরিশ্রম, অধ্যবসায় ও লক্ষ্য ছাড়া সুন্দর কিছু সৃষ্টি করা সম্ভব নয়। তরুণদের সামনে এখন অনেক দায়িত্ব। শুধু সফল হওয়াই নয়, একজন ভালো মানুষ হিসেবেও নিজেদের গড়ে তুলতে হবে।
তরুণ সমাজের সামনে বর্তমানে দুটি বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, মাদকাসক্তি এবং ইন্টারনেটভিত্তিক বিভিন্ন গেমে আসক্তি তরুণদের বিপথে নিয়ে যাচ্ছে। প্রযুক্তির নেতিবাচক ব্যবহারের কারণে সামাজিক অস্থিরতাও বাড়ছে। দেশের ১৮ কোটি মানুষ ও ৩৬ কোটি হাতকে দেশের মূল সম্পদ উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই সম্পদ যদি প্রযুক্তির নেতিবাচক দিকের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তাহলে রাষ্ট্রও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। আমরা চাই তরুণদের যোগ্য ও দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে।
এ সময় অভিভাবক ও শিক্ষকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের সামনে নিজেদের আদর্শ ব্যক্তিত্ব হিসেবে উপস্থাপন করতে হবে, যাতে তারা বড়দের অনুসরণ ও অনুকরণ করতে শেখে। সন্তানদের সময় দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বাবা-মা যদি সন্তানকে সময় না দেন, তাহলে বড় হয়ে সন্তানেরাও বাবা-মাকে সময় দেবে না। আমরা এমন একটি সমাজ গড়তে চাই, যেখানে সবাই নিরাপদে বসবাস করতে পারবে।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, ক্রীড়া সংগঠক, প্রশাসনের কর্মকর্তা ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে জেলা প্রশাসক উপজেলার পোমরা ইউনিয়ন পরিষদ পরিদর্শন ও ইউনিয়ন পরিষদস্থ পাবলিক লাইব্রেরির উদ্বোধন করেন। পরে টুর্নামেন্টের উদ্বোধন শেষে তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় পরিদর্শন করেন। এ সময় সেবাগ্রহীতাদের জন্য ওয়েটিং রুম কাম লাইব্রেরি উদ্বোধন এবং উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঝে শিক্ষা ও ক্রীড়াসামগ্রী বিতরণ করা হয়। এছাড়া রাঙ্গুনিয়ায় বছরব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন ও রাঙ্গুনিয়া মডেল থানাও পরিদর্শন করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।