সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

বাঁশখালীতে মাছভর্তি গাড়ি আটক নিয়ে রহস্য, প্রশাসনের নীরবতায় ক্ষোভ

মোহাম্মদ বেলাল উদ্দিন | প্রকাশিতঃ ২২ মে ২০২৬ | ১১:০৪ পূর্বাহ্ন


চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার চাম্বল ইউনিয়নে সামুদ্রিক মাছভর্তি একটি মিনিট্রাক আটককে কেন্দ্র করে রহস্যজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় প্রশাসনের নীরব ভূমিকা নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (২১ মে) রাত আনুমানিক ১০টা ১০ মিনিটের দিকে চাম্বল ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য আহমদ নুর ও জালাল উদ্দিনের নেতৃত্বে ৪ থেকে ৫ জন কর্মী চাম্বল বাজার এলাকায় মাছভর্তি ওই মিনিট্রাকটি আটক করেন। আটক করা গাড়িটির রেজিস্ট্রেশন নম্বর চট্টমেট্রো-ড-১১-২৯০২।

স্থানীয়দের অভিযোগ, গাড়িটিতে বিভিন্ন প্রজাতির সামুদ্রিক মাছ ছিল। এটি জামায়াত সমর্থিত ইসমাইল এলাহি ও ছাবেরের যৌথ মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স এলাহি ফিশিং’-এর গাড়ি বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা।

জানা যায়, মাছের গাড়ি আটকের বিষয়টি বাঁশখালী থানা পুলিশ, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ওমর সানি আকন এবং সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. তৌসিব উদ্দিন অবগত ছিলেন। তবে তারা কেউই কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেননি।

রাত আনুমানিক ১১টা ৩৫ মিনিটে পুলিশের রাত্রিকালীন টহল দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। প্রত্যক্ষদর্শী আহমদ নুর জানান, পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে গাড়ি আটককারীদের উদ্দেশে বলে, আপনারা গাড়ি আটক করেছেন, আপনারাই সকাল পর্যন্ত পাহারা দেন বা যা ইচ্ছে করেন। এই কথা বলে পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
আরেক প্রত্যক্ষদর্শী জালাল উদ্দিন জানান, প্রশাসনের এমন খামখেয়ালি ভূমিকা দেখে তারা হতাশ ও ক্ষুব্ধ হয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। এরপর রাত ১১টা ৫৫ মিনিটের দিকে মাছভর্তি গাড়িটি সেখান থেকে নির্বিঘ্নে চলে যায়।

এই ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের প্রশ্ন, প্রশাসন কি অবৈধ মাছ ব্যবসায়ীদের কাছে জিম্মি, নাকি অন্য কোনো কারণে তারা নীরব ভূমিকা পালন করছে? সচেতন মহল বলছেন, এভাবে অবাধে সামুদ্রিক মাছ আহরণ চলতে থাকলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম হয়তো সামুদ্রিক মাছ আর চোখেই দেখতে পাবে না।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ওমর সানি আকন জানান, তিনি তখন মাদকের একটি অভিযানে ছিলেন, ঘটনাস্থলে ছিলেন না। তাকে ফোন করা হলে তিনি মোবাইল কোর্টে থাকার বিষয়টি অবগত করেন। তিনি আরও জানান, একটি অভিযান শেষ না করে আরেকটিতে যাওয়ার সুযোগ নেই।

বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে পুলিশ না পাঠানোর বিষয়ে ওমর সানি আকন জানান, তিনি সরাসরি পুলিশ পাঠাতে পারেন না। তিনি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করতে গেলে পুলিশের সহযোগিতা নেন। তাই তিনি স্থানীয়দের ওসি রবিউল হককে বিষয়টি জানাতে বলেছিলেন।

এ বিষয়ে বাঁশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল হক জানান, যারা গাড়িটি আটক করেছে, তারা মৎস্য কর্মকর্তা মো. তৌসিব উদ্দিনকে অবগত করেছিল। কিন্তু মৎস্য কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে যাননি। তিনি ঘটনাস্থলে না গেলে পুলিশের পক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই।

এদিকে সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. তৌসিব উদ্দিন জানান, আগামী ৬ জুন পর্যন্ত সমুদ্রে মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তাকে অনেকেই ফোন করেন। কিন্তু সেগুলো সাগরের মাছ নাকি নদীর মাছ, তা তিনি কীভাবে জানবেন। তবে সরেজমিনে গিয়ে যাচাই-বাছাই করেছেন কি না, এমন প্রশ্নের কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি তিনি।