সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

চট্টগ্রাম আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে সব পদে বিএনপিপন্থীদের জয়, আ.লীগ-জামায়াতের বিক্ষোভ

একুশে প্রতিবেদক | প্রকাশিতঃ ২২ মে ২০২৬ | ১১:৫৪ পূর্বাহ্ন


চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ সব কটি পদে জয়লাভ করেছেন বিএনপিপন্থী আইনজীবী ঐক্য ফোরামের প্রার্থীরা।

নির্বাচনে কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় আওয়ামী লীগ সমর্থক আইনজীবীরা বাধার মুখে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করতে পারেননি। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত ঐক্যবদ্ধ আইনজীবী পরিষদ নির্বাচন কমিশনের প্রতি অনাস্থা জানিয়ে নির্বাচন বর্জন করে।

সমিতির সভাপতি পদে আইনজীবী ঐক্য পরিষদের তারিক আহমদ এবং সাধারণ সম্পাদক পদে মো. মঈনুদ্দীন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।

বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত অন্য প্রার্থীরা হলেন সিনিয়র সহসভাপতি সেলিমা খানম, সহসাধারণ সম্পাদক মো. নজরুল ইসলাম, অর্থ সম্পাদক আবুল মনছুর সিকদার, পাঠাগার সম্পাদক তৌহিদ হোছাইন সিকদার, সাংস্কৃতিক সম্পাদক বিলকিস আরা মিতু, ক্রীড়া সম্পাদক মো. সরোয়ার হোসাইন লাভলু এবং তথ্য ও প্রযুক্তি সম্পাদক মো. লোকমান শাহ। কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় নির্বাচন কমিশন তাদের বিজয়ী ঘোষণা করে।

সম্পাদকীয় ১০টি পদের মধ্যে ৯ জনই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। তবে সহসভাপতি পদে ভোট গ্রহণ হয়, যেখানে আইনজীবী ঐক্য ফোরামের নিলুফার ইয়াসমিন লাভলী ১ হাজার ৭৬৩ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন।

নির্বাহী সদস্য পদে ঐক্য ফোরাম ও ঐক্যবদ্ধ আইনজীবী পরিষদের মোট ২২ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এর মধ্যে ফোরামের ১১ জন বিজয়ী সদস্য হলেন আলী আকবর, দিদারুল আলম, দিলদার আহমেদ ভূঁইয়া, মো. ইকবাল হোসেন, মো. জসিম উদ্দিন, মোহাম্মদ হাসান, মোকতার উদ্দিন, মোমেনুল হক, সাদিয়া খান, সাইফুল ইসলাম এবং শেখ মো. ফয়সাল উদ্দিন।

জামায়াত সমর্থিত প্রার্থীরা নির্বাচন বর্জন করলেও ব্যালটে তাদের নাম থেকে যাওয়ায় ভোট পড়ে। মুখ্য নির্বাচন কর্মকর্তা রৌশন আরা বেগম জানান, ২১টি পদের সব কটিতে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন। এবারের নির্বাচনে ৪ হাজার ৫০০ জন ভোটারের মধ্যে ২ হাজার ১৬০ জন ভোট দিয়েছেন।

এদিকে একতরফা নির্বাচনের অভিযোগ এনে আওয়ামী লীগ ও জামায়াতপন্থী আইনজীবীরা আদালতপাড়ায় বিক্ষোভ করেছেন। জামায়াত সমর্থিতরা গত ৬ মে সংবাদ সম্মেলন করে বর্জনের ঘোষণা দেয় এবং ১৭ মে আদালতে মামলা করে। ১৯ মে তাদের তলবি সভায় নির্বাচনের পক্ষে ২৮৯ ও বিপক্ষে ১৭১ ভোট পড়ে। বর্জনের দাবিতে এক সপ্তাহ ধরে আদালতপাড়ায় কালো পতাকা মিছিল করে আসছেন তারা।

নির্বাচনের দিন অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে আদালত এলাকায় বিপুল পরিমাণ পুলিশ মোতায়েন করা হয়। আওয়ামীপন্থী আইনজীবীরা দিনভর বিক্ষোভ মিছিল করেন এবং শাপলা ভবনের সামনে প্রতিবাদী গান গান। জামায়াতপন্থী আইনজীবীরাও নির্বাচনী প্রচার ক্যাম্পের সামনে দুপুর থেকে প্রায় দুই ঘণ্টা মানববন্ধন করেন।

আওয়ামী লীগ সমর্থক আইনজীবী ও জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এইচ এম জিয়া উদ্দিন জানান, সমিতির ১৩৩ বছরের ইতিহাসে কখনো ভোটবিহীন বা অটো কমিটি গঠনের নজির নেই। বর্তমান নির্বাচন কমিশন একতরফা নির্বাচনের মাধ্যমে সমিতির ঐতিহ্য নষ্ট করছে বলে তিনি দাবি করেন।

এ বিষয়ে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম চট্টগ্রামের সদস্যসচিব কামরুল ইসলাম চৌধুরী জানান, রাষ্ট্রীয়ভাবে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ রয়েছে। তাই এ পরিস্থিতিতে দল সমর্থিত আইনজীবীদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের কোনো পরিবেশ বা সুযোগ নেই।