
চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার ঐতিহ্যবাহী চাতরী চৌমুহনী গরুর বাজারে সরকার নির্ধারিত নিয়ম অমান্য করে অতিরিক্ত হাসিল আদায় এবং চরম অব্যবস্থাপনার অভিযোগ উঠেছে।
শনিবার (২৩ মে) বিকেলে বাজারটি সরেজমিনে ঘুরে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা গেছে।
বিকেলে বাজারে গিয়ে দেখা যায়, বিভিন্ন এলাকা থেকে বেপারি ও খামারিরা পশু নিয়ে আসছেন। তবে অল্প কিছু পশু বিক্রি হওয়ার পরই হাসিল আদায় নিয়ে ক্রেতা ও ইজারাদারের লোকজনের মধ্যে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়।
ক্রেতাদের অভিযোগ, সরকার নির্ধারিত হারের তোয়াক্কা না করে এখানে প্রতি গরুতে সর্বনিম্ন তিন থেকে পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত হাসিল আদায় করা হচ্ছে।
বাজারে আসা একাধিক ক্রেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, হাসিল নেওয়ার নামে এখানে পকেট কাটা হচ্ছে। অতিরিক্ত টাকার পরিমাণ দেখে অনেকেই পশু না কিনেই বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন।
শুধু ক্রেতা নন, বাজারে এসে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা বিক্রেতা ও বেপারিরাও। উপজেলার বটতলী ইউনিয়নের আইমঙ্গল এলাকা থেকে তিনটি গরু নিয়ে বাজারে এসেছেন বিক্রেতা আবুল কাশেম।
তিনি জানান, একটি গরু বিক্রি করতে পারলেও বাকি দুটি নিয়ে তিনি বিপাকে পড়েছেন। আবুল কাশেম অভিযোগ করেন, অন্যান্য বাজারের মতো এই বাজারে বেপারিদের জন্য ন্যূনতম কোনো সুযোগ-সুবিধা নেই।
তীব্র গরমে পশু বা মানুষের জন্য নেই কোনো খাওয়ার পানির ব্যবস্থা, নেই কোনো টয়লেটও। অথচ উল্টো জুলুম করা হচ্ছে। যে খুঁটিতে গরু বাঁধা হয়েছে, সেই প্রতি খুঁটির জন্য গরু বিক্রি হোক বা না হোক ১০০ টাকার বেশি চাঁদা নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।
মোহাম্মদ ইয়াছিন নামের এক বিক্রেতাও বলেছেন, প্রতি খুঁটির জন্য ১০০ টাকার বেশি চাঁদা নেওয়া হচ্ছে।
নিয়মবহির্ভূত হাসিল ও খুঁটিপ্রতি টাকা আদায়ের বিষয়ে জানতে বাজারের ইজারাদার জাকির হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সরকারি নিয়ম না মানার বিষয়টি স্বীকার করেন।
জাকির হোসেন জানান, তারা সরকার নির্ধারিত চার থেকে পাঁচ শতাংশ হারে হাসিল নিচ্ছেন না। এর বদলে প্রতি গরুতে দুই হাজার টাকা করে নেওয়া হচ্ছে। সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তিনি উল্টো প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে বলেন, প্রতিবেদক কোথায় আছেন, বাজারে থাকলে তিনি এসে দেখা করছেন।
বাজারের এই অনিয়ম ও অতিরিক্ত হাসিল আদায়ের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মহিন উদ্দীনকে অবগত করার চেষ্টা করেন ভুক্তভোগীরা। তবে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি বলে জানান উপস্থিত ক্রেতা-বিক্রেতারা।
পরে এ প্রতিবেদকের পক্ষ থেকে ইউএনওর সরকারি মোবাইল নম্বরে এবং হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সাড়া পাওয়া যায়নি।
ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে চাতরী চৌমুহনী বাজারের এমন নৈরাজ্য বন্ধে এবং সরকারি নিয়ম অমান্য করায় ইজারাদারের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নিতে ঊর্ধ্বতন প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগীরা।