
চট্টগ্রাম নগরের চান্দগাঁও এলাকায় অভিযান চালিয়ে দুটি বিদেশি পিস্তল, তাজা গুলি ও কার্তুজসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে নগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন রাউজান উপজেলার আঁধারমানিক এলাকার মো. শুভ (২২) এবং কদলপুর শমসের পাড়া এলাকার মো. সুমন (৩৩)। পুলিশ জানিয়েছে, তারা চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী ওরফে বড় সাজ্জাদ এবং মোহাম্মদ রায়হানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী।
শুক্রবার (২২ মে) রাত সাড়ে ১১টার দিকে পুরোনো চান্দগাঁও এলাকার পাঠানিয়া গোদা গোলাম আলী নাজির সড়কের একটি ভাড়া বাসায় এই অভিযান চালানো হয়। আজ শনিবার চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিবি (উত্তর) বিভাগের একটি দল ওই বাসায় তল্লাশি চালায়। এ সময় মো. শুভর কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, আটটি গুলিভর্তি একটি ম্যাগাজিন ও ১৫টি শটগানের কার্তুজ উদ্ধার করা হয়।
অন্যদিকে, মো. সুমনের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় আরও একটি বিদেশি পিস্তল, সাতটি গুলিভর্তি একটি ম্যাগাজিন এবং একটি খালি ম্যাগাজিন।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মো. শুভ ও মো. সুমন অস্ত্র নিজেদের কাছে রাখার কথা স্বীকার করেছেন। তারা বড় সাজ্জাদ ও মোহাম্মদ রায়হানের নির্দেশে নগর এবং জেলার বিভিন্ন এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালাতেন বলেও পুলিশকে জানিয়েছেন।
পুলিশের দাবি, চাঁদার দাবিতে চন্দনপুরা এলাকায় স্মার্ট গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুজিবুর রহমান ও চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমানের বাড়িতে গুলির ঘটনায় এই দুজনের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে। এছাড়া বায়েজিদ বোস্তামী থানার রউফাবাদ এলাকায় রাজু নামের এক যুবককে গুলি করে হত্যার সঙ্গেও তারা জড়িত।
সিএমপি আরও জানায়, গ্রেপ্তারকৃত মো. শুভ ও মো. সুমনের বিরুদ্ধে রাউজান থানায় পৃথক দুটি হত্যা মামলা বিচারাধীন রয়েছে। বর্তমান ঘটনায় চান্দগাঁও থানায় তাদের বিরুদ্ধে নতুন করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
পুলিশ সূত্র জানায়, সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী ওরফে বড় সাজ্জাদ বিদেশে বসে চট্টগ্রামের অপরাধজগৎ নিয়ন্ত্রণ করছেন। তার প্রধান অনুসারী মোহাম্মদ রায়হান বছরখানেক আগে জামিনে বের হয়ে বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। গত বছরের ৫ আগস্টের পর রায়হানের নামে জোড়া খুনসহ ১৩টি মামলা হয়েছে, যার মধ্যে হত্যা মামলাই ছয়টি।
সাজ্জাদ বাহিনীর কারণে নগরের চান্দগাঁও, বায়েজিদ বোস্তামী, পাঁচলাইশ এবং জেলার হাটহাজারী ও রাউজান থানার কয়েক লাখ মানুষ চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি কোটি টাকা চাঁদা না পেয়ে স্মার্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমানের চন্দনপুরার বাসায় গুলি চালায় সাজ্জাদের সহযোগীরা। এর আগে ২ জানুয়ারিও সেখানে গুলি করা হয়েছিল।
সাজ্জাদ হোয়াটসঅ্যাপে ‘ওয়েট অ্যান্ড সি’ বার্তা দেওয়ার পর দ্বিতীয় দফায় এই হামলা হয়। পুলিশ পাহারায় থাকা অবস্থাতেই ওই বাসায় গুলির ঘটনায় জানালার কাচ ও দরজা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, চারজন অস্ত্রধারী সাবমেশিনগান, চায়নিজ রাইফেল, শটগান ও পিস্তল দিয়ে ওই বাসায় গুলি ছুড়ছে। এ ঘটনায় পুলিশ কয়েকজনকে ধরলেও অস্ত্রধারী রায়হান ও মোবারককে এখনো গ্রেপ্তার করতে পারেনি।
উল্লেখ্য, স্মার্ট গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুজিবুর রহমান ২০২৪ সালের নির্বাচনে চট্টগ্রামের বাঁশখালী থেকে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।