
চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, নিজস্ব আয়ের মাধ্যমে চসিককে স্বাবলম্বী করা গেলে শ্রমিক-কর্মচারীদের অধিকার প্রতিষ্ঠা, চাকরি স্থায়ীকরণ এবং রাস্তা-ড্রেন উন্নয়নসহ সব সেবামূলক কাজ দ্রুত বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে।
শনিবার (২৩ মে) বিকেলে নগরীর লালদীঘি এলাকার চসিক পাবলিক লাইব্রেরি হলরুমে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
চসিক জাতীয়তাবাদী শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়ন (রেজি: নং-চট্ট-২১) আয়োজিত নবনির্বাচিত কমিটির অভিষেক উপলক্ষে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, তিনি দায়িত্ব নেওয়ার সময় চসিক প্রায় ৪৫০ কোটি টাকার দেনায় জর্জরিত ছিল। তবে সবার সহযোগিতা ও মহান আল্লাহর রহমতে এরই মধ্যে প্রায় ১০০ কোটি টাকার দেনা পরিশোধ করা সম্ভব হয়েছে। বর্তমানে নিয়মিতভাবে ঠিকাদারদের পাওনা পরিশোধের চেষ্টা চলছে।
চট্টগ্রাম বন্দরের কাছ থেকে আইনানুগ হোল্ডিং ট্যাক্স আদায়ের বিষয়ে চসিক কঠোর অবস্থানে রয়েছে বলে জানান মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।
তিনি উল্লেখ করেন, আগে বন্দরের জন্য মাত্র ৪৫ কোটি টাকা কর নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু নতুন মূল্যায়নের মাধ্যমে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য তা ২৬৪ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
ডা. শাহাদাত হোসেন আরও বলেন, বন্দরের ভারী যানবাহন প্রতিনিয়ত চসিকের সড়ক ব্যবহার করে। এর ফলে বছরে অতিরিক্ত ৪০০ থেকে ৫০০ কোটি টাকার রাস্তা সংস্কার ব্যয় চসিককে বহন করতে হয়। তিনি কোনো ক্ষতিপূরণ চান না, শুধু চসিকের ন্যায্য কর আদায় নিশ্চিত করতে চান।
শ্রমিক-কর্মচারীদের চাকরি স্থায়ীকরণ প্রসঙ্গে ডা. শাহাদাত হোসেন জানান, চসিকের ইতিহাসে ১ হাজার ৫৫৭ জনকে স্থায়ী করার উদ্যোগ একটি সাহসী পদক্ষেপ। ধীরে ধীরে সবাইকে স্থায়ী করা হবে, কারণ এটি শ্রমিকদের অধিকার।
ডোর টু ডোর পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের বিষয়ে ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, যারা রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে নগর পরিষ্কার রাখছেন, তাদের জন্য বর্ষাকালে রেইনকোটের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। শ্রমিকদের কল্যাণে তারা কাজ করে যাচ্ছেন।
ডা. শাহাদাত হোসেন আরও উল্লেখ করেন, গত ঈদুল ফিতরে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের জন্য ১ কোটি ৬৩ লাখ টাকার সহায়তা দেওয়া হয়েছিল। এবার ঈদুল আজহায়ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ১ কোটি ৬৩ লাখ টাকার সহায়তা দিয়েছেন।
এছাড়া শ্রমিকদের আবাসনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে ৮০ কোটি টাকার সহায়তা চাওয়া হলে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে তা অনুমোদন দিয়েছেন বলেও জানান ডা. শাহাদাত হোসেন।
চসিকের শিক্ষা কার্যক্রম প্রসঙ্গে ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের অধীনে ৭৮টি স্কুল, ২৮টি কলেজ, একটি বিশ্ববিদ্যালয় এবং ২০০টির বেশি মাদরাসা রয়েছে। শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতনসহ শিক্ষা খাতে বছরে প্রায় ৯৬ কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হয়। তবে এটিকে তারা ব্যয় নয়, বরং আগামী প্রজন্মের জন্য বিনিয়োগ হিসেবে দেখেন।
ডা. শাহাদাত হোসেন আরও জানান, চসিক পরিচালিত প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয় দেশের প্রথম বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে সাতটি বিষয়ে অ্যাক্রেডিটেশন সনদ অর্জন করেছে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নবনির্বাচিত কমিটির সভাপতি মামুনুর রশীদ মামুন। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলাউদ্দীন ও সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আনু মিয়া বাবুল।
এতে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির শ্রম সম্পাদক এ এম নাজিম উদ্দীন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর, বিভাগীয় শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক শেখ নুরুল্লাহ বাহার, সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুল ইসলাম মজুমদার এবং প্রচার সম্পাদক আবু বক্কর সিদ্দিকী।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন কোতোয়ালি থানা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব জাকির হোসেন, নবনির্বাচিত কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি জাফর আহমেদ, সহ-সভাপতি মন্জু মিয়া, সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক সবুর খান মাসুম, সহ-সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুর আহমেদ, সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ এবং প্রচার সম্পাদক মীর হারুন।
এছাড়া অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন নবনির্বাচিত কমিটির দপ্তর সম্পাদক কাজী আহসান হাবীব, অর্থ সম্পাদক শাখাওয়াত হোসেন, ক্রীড়া সম্পাদক সোহেল উদ্দিন, শ্রম সম্পাদক রমিজুল হাসান, মহিলা সম্পাদক রোকসানা আক্তার, কার্যকরী সদস্য হাসান ওসমান লিটন, আরিফ হোসেন এবং মাহাবুবুর রহমান।