সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

পটিয়ায় সড়ক প্রশস্তকরণে অনিয়ম: সড়কের পাশ থেকেই কাটা হচ্ছে মাটি

রবিউল হোসেন | প্রকাশিতঃ ২৪ মে ২০২৬ | ৪:২৬ অপরাহ্ন


চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলায় দুই ইউনিয়নের সংযোগ সড়ক প্রশস্তকরণের কাজে সড়কের পাশ থেকেই মাটি কেটে ব্যবহার করার অভিযোগ উঠেছে।

এতে কাজের গুণগত মান ও সড়কের স্থায়িত্ব নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

একই সঙ্গে সড়ক সম্প্রসারণের সময় ব্যক্তিমালিকানাধীন জায়গার গাছ ও পুকুরপাড় কেটে ক্ষতিসাধনের অভিযোগও তুলেছেন ভুক্তভোগীরা।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-এর অধীনে ১৩ কোটি ৬০ লাখ টাকা ব্যয়ে উপজেলার শোভনদণ্ডী ইউনিয়নের মহাজনহাট থেকে ছনহরা মুরালীহাট পর্যন্ত এই সংযোগ সড়ক প্রশস্তকরণের কাজ চলমান রয়েছে।

চলতি বছরের ১০ মার্চ শুরু হওয়া এ প্রকল্পের কাজ চলবে ২০২৭ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।

প্রকল্পের আওতায় সড়কের দুই পাশে ৫ ফুট করে মোট ১০ ফুট প্রশস্ত করা হচ্ছে। এছাড়া নির্মাণ করা হবে ১৫টি কালভার্ট, ১ হাজার ৪০০ মিটার প্রতিরোধক ওয়াল এবং ১ হাজার ২৮০ মিটার আরসিসি ঢালাই।

স্থানীয়রা জানান, গত দুই মাস ধরে স্কেভেটর দিয়ে সড়কের পাশের মাটি কেটেই সড়ক ভরাট করা হচ্ছে।

ঠিকাদার স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী হওয়ায় ভয়ে অনেকে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না বলেও অভিযোগ রয়েছে।

কুরাংগিরি এলাকার বাসিন্দা আরিফ উদ্দীন অভিযোগ করে বলেন, সড়ক প্রশস্তকরণের কাজে তাদের জায়গার পুকুরপাড়ের মাটি ও গাছ কেটে ব্যবহার করা হলেও কোনো ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়নি।

বিষয়টি নিয়ে ওই এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

আরিফ উদ্দীন আরও জানান, এ বিষয়ে এলজিইডি, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক এবং পটিয়া এলজিইডি অফিসে লিখিত অভিযোগ দিলেও এখনো কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

এ ব্যাপারে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিপা এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. ইসমাঈল জানান, সড়কের দুই পাশে প্রশস্তকরণের কাজ সরকারি জায়গাতেই করা হচ্ছে। যিনি অভিযোগ দিয়েছেন, সেখানে তাদের কোনো জায়গা নেই।

কারো ক্ষতি করে প্রকল্পের কোনো কাজ করা হচ্ছে না বলে দাবি করেন মো. ইসমাঈল।

তিনি আরও জানান, সড়ক প্রশস্তকরণের জন্য মাটি ভরাটের কাজ শেষ হলে যেসব জায়গা ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, সেসব স্থানে প্রতিরোধক ওয়াল দেওয়া হবে।

এ বিষয়ে পটিয়া উপজেলা এলজিইডির সহকারী প্রকৌশলী আমান উল্লাহ জানিয়েছেন, লিখিত অভিযোগের বিষয়টি তারা পেয়েছেন। সরেজমিনে পরিদর্শন করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সড়কের পাশ থেকে মাটি কাটার বিষয়ে আমান উল্লাহ বলেন, মাটি দেওয়ার পর এক বছর তা পর্যবেক্ষণে রাখা হবে। বর্ষার পর যদি কোনো জায়গা থেকে মাটি সরে যায়, তাহলে পুনরায় সেখানে মাটি ভরাট করে দেওয়া হবে।