
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরে যৌথ বাহিনীর ক্যাম্পে সন্ত্রাসী মো. ইয়াছিন বাহিনীর সদস্যরা গুলি চালিয়েছে বলে জানিয়েছে র্যাব।
রোববার দিবাগত রাত দুইটার দিকে এই হামলার ঘটনা ঘটে। র্যাব জানায়, আত্মরক্ষার্থে র্যাব সদস্যরাও পাল্টা গুলি ছুড়েছেন। তবে এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত হতাহতের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কিছু জানা যায়নি।
র্যাব-৭ চট্টগ্রামের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাফিজুর রহমান রাত সাড়ে তিনটার দিকে বিভিন্ন গণমাধ্যমে পাঠানো খুদে বার্তায় এই তথ্য নিশ্চিত করেন। লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাফিজুর রহমান আরও জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম নগরের বায়েজিদ-ফৌজদারহাট সংযোগ সড়ক ধরে এগোলে এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনের বিপরীত দিকে পাহাড়ের ভেতরে একটি সড়ক ঢুকে গেছে। মূলত সেই পথেই সলিমপুরের শুরু। জঙ্গল সলিমপুর ও আলীনগর—এই দুটি অংশে বিভক্ত পুরো এলাকাটি।
জেলা প্রশাসনের তথ্যমতে, এই এলাকায় ৩ হাজার ১০০ একর খাসজমি রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এলাকাটি নিয়ন্ত্রণ করে আসছে বিভিন্ন ভূমিদস্যু ও সন্ত্রাসী গোষ্ঠী।
গত ৯ মার্চ প্রথমবারের মতো সেনাবাহিনী, র্যাব, পুলিশ ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) প্রায় ৩ হাজার ২০০ সদস্য যৌথ অভিযান চালিয়ে এলাকাটির নিয়ন্ত্রণ নেন। এর আগে বিভিন্ন সময় চেষ্টা করেও এলাকাটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়া সম্ভব হয়নি। উল্টো অভিযানে গিয়ে এর আগে হামলার শিকার হয়েছেন পুলিশ ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা।
সংশ্লিষ্টরা জানান, এবারের অভিযানের পর সন্ত্রাসীরা গা ঢাকা দিয়েছে। এই অবস্থায় জঙ্গল সলিমপুরের এস এম পাইলট উচ্চবিদ্যালয় ও আলীনগর উচ্চবিদ্যালয়ে র্যাব-পুলিশের সমন্বয়ে পৃথক দুটি চৌকি বসানো হয়েছে।
গত ৯ মার্চের ওই যৌথ অভিযানে ২২ জনকে গ্রেপ্তার করা হলেও ইয়াছিন বাহিনীর প্রধান মো. ইয়াছিন, রোকন বাহিনীর প্রধান রোকন উদ্দিন, মশিউর রহমান, নুরুল হক ভান্ডারি, গাজী সাদেক এবং গোলাম গফুরসহ কয়েকজন চিহ্নিত সন্ত্রাসী এখনো পলাতক রয়েছেন।
এলাকাবাসী জানান, ওই যৌথ অভিযানের আগে জঙ্গল সলিমপুরের ছিন্নমূল এলাকা রোকন উদ্দিনের দখলে এবং আলীনগর এলাকা মো. ইয়াছিনের দখলে ছিল।