সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

সাতকানিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক সংকট: শূন্য পদ ও অনুপস্থিতিতে ব্যাহত চিকিৎসাসেবা

মুহাম্মদ নাজিম উদ্দিন | প্রকাশিতঃ ২৫ মে ২০২৬ | ১০:৫৯ পূর্বাহ্ন


চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসক সংকট, একাধিক পদ শূন্য থাকা এবং কয়েকজন চিকিৎসকের কর্মস্থলে অনুপস্থিতির কারণে চিকিৎসাসেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও টেকনিক্যাল জনবলের অভাবে প্রতিদিন সেবা নিতে আসা রোগীদের ভোগান্তি বাড়ছে।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, কনসালটেন্ট ও মেডিকেল অফিসার মিলিয়ে অনুমোদিত ৩৮টি পদের মধ্যে বর্তমানে ৬টি কনসালটেন্ট ও ১১টি মেডিকেল অফিসারের পদ শূন্য রয়েছে। বিপুলসংখ্যক রোগীর বিপরীতে চিকিৎসকের এই ঘাটতি হাসপাতালটির সার্বিক স্বাস্থ্যসেবাকে চাপে ফেলেছে।

সূত্র আরও জানায়, গত এক মাসে প্রায় ১২ হাজার রোগীকে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়েছে। প্রতিদিন ইনডোরে গড়ে ৬০ থেকে ৭০ জন রোগী ভর্তি থাকেন। কিন্তু প্রয়োজনের তুলনায় চিকিৎসক কম থাকায় রোগীদের কাঙ্ক্ষিত সেবা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ছে।

হাসপাতাল সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, সহকারী সার্জন ও জরুরি বিভাগে কর্মরত ডা. আদনিন মওরিন প্রায় ছয় মাস ধরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রশিক্ষণে রয়েছেন। ডা. আফসানা জেরীন প্রায় নয় মাস ধরে সংযুক্তিতে চট্টগ্রামের ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে কর্মরত আছেন।

এছাড়া মেডিকেল অফিসার ডা. অনিতা দাস গুপ্ত দুই মাসের ফাউন্ডেশন প্রশিক্ষণে কুমিল্লা বার্ড ইনস্টিটিউটে রয়েছেন। ডা. শেগুফতা মিশকাত মোকাররমা প্রায় দেড় বছর ধরে সংযুক্তিতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দায়িত্ব পালন করছেন বলে জানা গেছে।

অন্যদিকে কয়েকজন চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে নিয়মিত উপস্থিত না থাকার অভিযোগ রয়েছে। হাসপাতাল সূত্র জানায়, পশ্চিম ঢেমশা ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে কর্মরত সহকারী সার্জন ডা. রুবাইতা সানজিন আলম ২০২৪ সালের ৫ ডিসেম্বর থেকে বিনা অনুমতিতে অনুপস্থিত রয়েছেন।

রোগীদের অভিযোগ, অনেক সময় প্রয়োজনীয় চিকিৎসক কর্মস্থলে না থাকায় দূর-দূরান্ত থেকে এসেও চিকিৎসা না পেয়ে ফিরে যেতে হচ্ছে। বিশেষ করে জরুরি ও বিশেষায়িত সেবায় দুর্ভোগ বেশি হচ্ছে।

হাসপাতালে আধুনিক যন্ত্রপাতি থাকলেও জনবল সংকটে সেগুলোর অনেকটাই অকার্যকর হয়ে পড়ে আছে। আল্ট্রাসনোগ্রাফি মেশিন থাকলেও সোনোলজিস্ট না থাকায় রোগীরা এই সেবা পাচ্ছেন না। একইভাবে এক্স-রে মেশিন থাকলেও টেকনিশিয়ানের অভাবে সেটি কার্যকরভাবে ব্যবহার করা যাচ্ছে না। ফলে রোগীদের অতিরিক্ত খরচ করে বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরীক্ষা করাতে হচ্ছে।

এদিকে ২০১৪ সালে হাসপাতালের জন্য একটি জেনারেটর সরবরাহ করা হলেও এখনো জ্বালানির বরাদ্দ না পাওয়ায় সেটি চালু করা সম্ভব হয়নি। বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সময় জরুরি বিভাগ ও ইনডোরে রোগীদের দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়।

স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীর সংকট নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ না নেওয়ায় উপজেলার স্বাস্থ্যব্যবস্থা ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। দ্রুত শূন্য পদে নিয়োগ, চিকিৎসকদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং প্রয়োজনীয় টেকনিক্যাল জনবল নিয়োগ না দিলে সরকারের সবার জন্য চিকিৎসা নিশ্চিত করার লক্ষ্য বাস্তবায়ন কঠিন হয়ে পড়বে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

এ বিষয়ে সাতকানিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা ডা. মনজুর মোরশেদ বলেন, চিকিৎসক সংকটসহ বিভিন্ন সমস্যার বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। ডা. মনজুর মোরশেদ আশা প্রকাশ করেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে সমস্যাগুলোর সমাধান হবে।