
চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির নির্বাচনে ইউনাইটেড বিজনেস ফোরামের পুরো প্যানেলের বিজয়ের পর নতুন সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন প্যানেল দলনেতা মোহাম্মদ আমিরুল হক। সোমবার (২৫ মে) প্রেসিডিয়াম নির্বাচনে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে সভাপতি নির্বাচিত করেছেন নবনির্বাচিত পরিচালকেরা।
আজ বেলা সাড়ে ১১টায় ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে চেম্বার কার্যালয়ে নতুন প্রেসিডিয়াম গঠনের লক্ষ্যে পরিচালকদের এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। চেম্বার নির্বাচন বোর্ডের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এই সভায় নবনির্বাচিত পরিচালকেরা সর্বসম্মতিক্রমে নতুন প্রেসিডিয়াম গঠন করেন।
নতুন পর্ষদে মোহাম্মদ আমিরুল হক টাউন ও ট্রেড শ্রেণি থেকে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন। সাধারণ শ্রেণি থেকে জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি পদে নির্বাচিত হয়েছেন আমজাদ হোসাইন চৌধুরী। এ ছাড়া সহযোগী শ্রেণি থেকে সহসভাপতি পদে মশিউল আলম স্বপনকে নির্বাচিত করা হয়েছে।
এর আগে গত শনিবার চট্টগ্রাম চেম্বারের ২০২৫-২৭ দ্বিবার্ষিক নির্বাচনে ১৮টি পরিচালক পদে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। বাকি ছয়জন পরিচালক পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।
চেম্বার সূত্র জানায়, শতবর্ষী এই চেম্বারে ব্যবসায়ীদের ভোটে সাধারণ শ্রেণি থেকে ১২ জন, সহযোগী শ্রেণি থেকে ৬ জন এবং টাউন অ্যাসোসিয়েশন ও ট্রেড গ্রুপ শ্রেণি থেকে ৩ জন করে আরও ৬ জন পরিচালক নির্বাচিত হন। এভাবে চেম্বারের ২৪ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ পর্ষদ গঠিত হয়। পরে এই নির্বাচিত পরিচালকদের ভোটে একজন সভাপতি এবং দুজন সহসভাপতি নির্বাচিত করার নিয়ম রয়েছে।
নতুন সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক আগেও চট্টগ্রাম চেম্বার ও এফবিসিসিআইয়ের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি সি কম গ্রুপ ও প্রিমিয়ার সিমেন্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। এ ছাড়া মোহাম্মদ আমিরুল হক এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশ সিমেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনেরও সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
অন্যদিকে নবনির্বাচিত জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি আমজাদ হোসেন চৌধুরী রাইজিং গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং সহসভাপতি মশিউল আলম বাংলাদেশ শিপিং এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে যুক্ত রয়েছেন।
এবারের নির্বাচনে এস এম নুরুল হকের নেতৃত্বে সম্মিলিত ব্যবসায়ী পরিষদ এবং মোহাম্মদ আমিরুল হকের নেতৃত্বে ইউনাইটেড বিজনেস ফোরাম অংশ নেয়। এ ছাড়া ১৬ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। তবে গত শুক্রবার এই নির্বাচনকে প্রহসনের নির্বাচন আখ্যা দিয়ে ভোটের মাঠ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেয় এস এম নুরুল হকের নেতৃত্বাধীন সম্মিলিত ব্যবসায়ী পরিষদ। নির্বাচনে সাধারণ ও সহযোগী শ্রেণিতে মোট ভোটার ছিলেন ৬ হাজার ৭৮০ জন, যার মধ্যে ভোট দিয়েছেন ২ হাজার ৭২৫ জন বা প্রায় ৪০ শতাংশ ভোটার।
নির্বাচনে সাধারণ শ্রেণি থেকে পরিচালক পদে বিজয়ী হয়েছেন— কামাল মোস্তফা চৌধুরী, এ এস এম ইসমাইল খান, আবু হায়দার চৌধুরী, মো. আমজাদ হোসাইন চৌধুরী, নাসির উদ্দিন চৌধুরী, আসাদ ইফতেখার, আমান উল্লা আল ছগির, মো. গোলাম সরওয়ার, মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান, মোহাম্মদ শফিউল আলম, মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম চৌধুরী এবং শহিদুল আলম।
সহযোগী শ্রেণি থেকে পরিচালক নির্বাচিত হয়েছেন— মো. জাহিদুল হাসান, মো. নুরুল ইসলাম, মো. সেলিম নুর, সরোয়ার আলম খান, মশিউল আলম এবং মোহাম্মদ আলাউদ্দিন আল আজাদ।
এছাড়া ট্রেড গ্রুপ শ্রেণিতে মোহাম্মদ আখতার পারভেজ, মোহাম্মদ আমিরুল হক ও এস এম সাইফুল আলম এবং টাউন অ্যাসোসিয়েশন শ্রেণিতে আফসার হাসান চৌধুরী, মোহাম্মদ মনির উদ্দিন ও মোহাম্মদ সজ্জাদ উন নেওয়াজ বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পরিচালক নির্বাচিত হয়েছেন।