
পবিত্র ঈদুল আজহা বা কোরবানির ঈদ একেবারে ঘনিয়ে এসেছে। এরই মধ্যে ঈদ ঘিরে কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় কামারের দোকানগুলোতে বিরামহীন ব্যস্ততা বেড়েছে।
প্রতি বছরের মতো এবারও কোরবানির পশু জবাই এবং মাংস কাটার অন্যতম সরঞ্জাম দা, ছুরি, বটি ও কিরিচ তৈরি এবং শাণ দেওয়ার জন্য মানুষ কামারের দোকানে ভিড় জমাচ্ছেন। একইভাবে দোকানের কারিগররাও দিনরাত এক করে মাংস কাটার সরঞ্জাম তৈরিতে কঠোর পরিশ্রম করে চলছেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, কামারের দোকানগুলোতে কারিগররা সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত উত্তপ্ত লোহাকে বিভিন্ন আকৃতিতে রূপ দিয়ে দা, ছুরি, বটি ও কিরিচ বানাতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। দোকানগুলো এখন টুংটাং শব্দে মুখর হয়ে উঠেছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, সারা বছর সরঞ্জাম তৈরির কাজ তুলনামূলক কম থাকলেও কোরবানির ঈদের সময় কামারের দোকানগুলোতে জৌলুশ ফিরে আসে। ক্রেতাদের চাহিদা মেটাতে দা, বটি, ছুরি, চাপাতি ও রামদাসহ কোরবানির পশু জবাই ও মাংস কাটার বিভিন্ন সরঞ্জাম তৈরি করা হচ্ছে। একই সঙ্গে পুরোনো সরঞ্জাম শাণ দেওয়ার কাজও পুরোদমে চলছে।
মঙ্গলবার (২৬ মে) দুপুরে চকরিয়া উপজেলা সদরের কয়েকটি কামারের দোকানে গিয়ে দেখা যায়, কারিগররা নতুন সরঞ্জাম তৈরির অর্ডার নেওয়া বন্ধ করে দিয়েছেন। পুরোনো দা, ছুরি, বটি যারা আনছেন, তাদের কেবল শাণ দেওয়ার জন্যই মেমো কাটা হচ্ছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে চিরিঙ্গা হিন্দুপাড়া সড়কের কামার দোকানি হারাধন কর্মকার জানান, কোরবানি উপলক্ষে বেশিরভাগ দোকানে এখন নতুন সরঞ্জাম তৈরির অর্ডার নেওয়া হচ্ছে না। হারাধন কর্মকার আরও জানান, গত ১৫ দিনে যে পরিমাণ সরঞ্জাম তৈরির কাজ নেওয়া হয়েছে, তা এখনো গ্রাহককে বুঝিয়ে দেওয়া সম্ভব হয়নি। ফলে নতুন করে সরঞ্জাম তৈরির অর্ডার বন্ধ রাখা হয়েছে। হারাধন কর্মকার বলেন, এখন পুরোনো দা, ছুরি, বটি শাণ দিতে দিতেই কারিগররা সময় কুলাতে পারছেন না।
চকরিয়া পৌরসভার মগবাজার এলাকার দোকানি নিবাস কর্মকার জানান, কোরবানির ঈদ একেবারে ঘনিয়ে এসেছে। এখন নতুন সরঞ্জাম তৈরি করতে হলে কারিগরদের অন্য কাজ বাদ দিতে হবে। নিবাস কর্মকার আরও জানান, অনেকে জরুরিভিত্তিতে নতুন সরঞ্জাম তৈরির জন্য পীড়াপীড়ি করেন, কিন্তু মজুরির পরিমাণ তুলনামূলক একটু বেশি চাইলে উল্টো ঝগড়াবিবাদ শুরু করেন। সে কারণেই নতুন অর্ডার নিতে বেশিরভাগ দোকানি অনীহা দেখাচ্ছেন বলে নিবাস কর্মকার দাবি করেন।
বদরখালী বাজারের কামার দোকানি বাদল কর্মকার জানান, তিনি প্রায় এগারো বছর ধরে সেখানে দোকান করছেন। সারা বছর কাজের চাপ কম থাকলেও কোরবানির ঈদ এলেই কিছুটা বেশি আয় করার সুযোগ তৈরি হয়। বাপ-দাদার এই পেশাকে এখনো ধরে রেখেছেন উল্লেখ করে বাদল কর্মকার বলেন, কোরবানির সময় অনেকে পুরোনো দা, বটি ও ছুরি শাণ দিতে আসেন, আবার কেউ নতুন সরঞ্জাম কেনেন। বাদল কর্মকার আরও বলেন, ঈদের এক সপ্তাহ আগে থেকেই তাদের ব্যস্ততা বহুগুণ বেড়ে যায়।
চকরিয়া উপজেলা সদরের কামারের দোকানগুলোতে এখন প্রতিটি দা শাণ দিতে ১০০ টাকা, বড় বটি শাণ দিতে ৮০ থেকে ১০০ টাকা এবং ছুরি শাণ দিতে ৫০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া নতুন দা ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা, বটি ২০০ থেকে ১ হাজার টাকা এবং ছুরি ১৫০ থেকে ২৫০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে।
কামারের দোকানে কোরবানির ঈদ উপলক্ষে পশু জবাই ও পরবর্তী কাজের জন্য দা, বটি ও ছুরি শাণ দিতে এসেছেন চকরিয়া পৌরসভার টিকাদান সুপারভাইজার মো. নাজিম উদ্দীন। মো. নাজিম উদ্দীন বলেন, বছরে একবার দা, ছুরি, বটি শাণ দিতে কামারের দোকানে আসতে হয়। তারা এ সময় কাজের চাপের কারণে কিছুটা বাড়তি টাকা চান। মো. নাজিম উদ্দীন আরও বলেন, কামাররা সারা বছর দোকান করেন, তাদেরও ঘর-সংসার আছে, সবকিছু বিবেচনা করে চাহিদা মোতাবেক মজুরি দিয়েই তিনি কাজ আদায় করে নিয়েছেন।