
অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শ বাস্তবায়ন এবং জিয়াউর রহমানের স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ে তুলতে জনগণকে সঙ্গে নিয়েই কাজ করতে হবে। জনগণের কল্যাণে নিবেদিত থেকে জনগণের সুখ-দুঃখের অংশীদার হওয়ার মধ্য দিয়েই শহীদ জিয়াউর রহমানের প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা জানানো সম্ভব।
আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী আজ দুপুরে নগরীর কাজীর দেউরী মোড়ে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন চট্টগ্রামের উদ্যোগে মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বীর উত্তমের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে দুস্থ, অসহায় ও পথচারীদের মাঝে খাবার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, আমরা আজ এমন একটি স্থানে দাঁড়িয়ে আছি, যার সঙ্গে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের স্মৃতি গভীরভাবে জড়িয়ে আছে। এই সার্কিট হাউসেই জিয়াউর রহমানকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল। কিন্তু জিয়াউর রহমানকে হত্যা করেও জিয়াউর রহমানের আদর্শ ও দর্শনকে মুছে ফেলা যায়নি। জিয়াউর রহমান বাংলাদেশে একদলীয় শাসনের পরিবর্তে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন এবং দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছিলেন।
আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী আরও বলেন, শহীদ জিয়াউর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে হলে জিয়াউর রহমানের আদর্শ ধারণ করতে হবে এবং জনগণের পাশে থাকতে হবে। বিএনপির নেতাকর্মীদের মনে রাখতে হবে, জনগণই দলের মূল শক্তি। জনগণের স্বার্থ, চাহিদা ও প্রত্যাশাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করতে হবে।
নেতাকর্মীদের উদ্দেশে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, যাদের জন্য আমরা রাজনীতি করি, সেই সাধারণ মানুষকে কখনো ভুলে গেলে চলবে না। সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখ আমাদের ধারণ করতে হবে এবং রাষ্ট্রীয় উদ্যোগের মাধ্যমে জনগণের প্রত্যাশা পূরণে কাজ করতে হবে।
আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী আরও বলেন, বিএনপি একা কোনো পরিবর্তন আনতে পারবে না। দেশের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে, সকলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেই আমরা একটি সমৃদ্ধ, গণতান্ত্রিক ও জনকল্যাণমুখী বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারব।
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, শহীদ জিয়াউর রহমান ছিলেন একজন ক্ষণজন্মা পুরুষ। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে জিয়াউর রহমানের ঐতিহাসিক স্বাধীনতার ঘোষণা এবং সম্মুখ সমরে জিয়াউর রহমানের বীরোচিত অংশগ্রহণ জাতিকে স্বাধীনতা অর্জনে অনুপ্রাণিত করেছিল। পঁচাত্তর-পরবর্তী এক ক্রান্তিকালে যখন জাতি দিশেহারা, ঠিক তখনই জিয়াউর রহমান দেশের হাল ধরেছিলেন। জিয়াউর রহমান জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন এবং সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে নিরলস কাজ করে গেছেন বলে ডা. শাহাদাত হোসেন উল্লেখ করেন।
মহানগর বিএনপির সদস্য মো. কামরুল ইসলামের পরিচালনায় এই কর্মসূচিতে বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব এরশাদ উল্লাহ, দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান এবং চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন চট্টগ্রামের সমন্বয়কারী অধ্যাপক ডা. জসিম উদ্দিন, মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আলহাজ্ব এম এ আজিজ, শাহ আলম, ইয়াছিন চৌধুরী লিটন, আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ইসকান্দার মির্জা, গাজী মো. সিরাজ উল্লাহ, আনোয়ার হোসেন লিপু, জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন কেন্দ্রীয় রিহ্যাব কমিটির সদস্য ডা. এস এম সারোয়ার আলম, মহানগর মহিলা দলের সভাপতি মনোয়ারা বেগম মনি, কোতোয়ালি থানা বিএনপির সাবেক সভাপতি মন্জুর রহমান চৌধুরী, মহানগর যুবদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এমদাদুল হক বাদশা এবং বাগমনিরাম ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক হাজী আবু ফয়েজ প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী, সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এবং সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। পরে প্রধান অতিথি আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন উপস্থিত মানুষের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেন।