
আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার ছাতারপাইয়া বাজারে দুই পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। এ সময় বাজারের প্রায় ৭০টি দোকানে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে।
শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টা থেকে শুরু হওয়া এই সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে পুলিশের দুই কর্মকর্তাও আহত হন। পরে রাত একটার দিকে সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে ছাতারপাইয়া এলাকার পূর্ব পাড়া ও পশ্চিম পাড়ার মধ্যে বিরোধ চলে আসছে। পশ্চিম পাড়ার নেতৃত্বে রয়েছেন ছাতারপাইয়া ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান ইসমাইল মেম্বার এবং পূর্ব পাড়ার নিয়ন্ত্রণে রয়েছেন ইউপি চেয়ারম্যান আবদুর রহমান। ঈদের তিন দিন আগে একটি ইজিবাইক ও মোটরসাইকেলের দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে পশ্চিম পাড়ার একটি দল পূর্ব পাড়ার যুবদল নেতা সুমনের বাড়িতে হামলা চালায়। সেই ঘটনার জের ধরেই শুক্রবার রাতে এই সংঘর্ষ ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে।
তবে এই ঘটনার পেছনে নির্মাণাধীন একটি ভবনের বৈদ্যুতিক তার চুরির বিষয়টিকে সামনে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ছানোয়ার হার্ডওয়্যারের স্বত্বাধিকারী বেলায়েত হোসেন ও ঠিকাদার মঈন জানান, তার চুরির বিষয়টি শুক্রবার বিকালেই ক্ষতিপূরণের শর্তে মীমাংসা হয়ে গিয়েছিল। মূলত স্থানীয় নেতাদের ইন্ধনে দুই পক্ষ নিজেদের স্বার্থে এই সংঘর্ষে জড়িয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শুক্রবার এশার নামাজের পর থেকে রাত ১টা পর্যন্ত দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ চলে। উভয় পক্ষ হেলমেট পরে দেশীয় অস্ত্র, রড, লোহার পাইপ ও লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলায় অংশ নেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সোনাইমুড়ী ও সেনবাগ থানার পুলিশ ব্যর্থ হয়। পরে সেনাবাহিনী এসে লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতি শান্ত করে।
সংঘর্ষের জেরে বাজারের ব্যবসায়ীরা ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। পশ্চিম পাড়ার বাসিন্দা ব্যবসায়ী মো. ইসরাফিল জানান, তার দোকানের শাটার ভেঙে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের সিগারেট, মোবাইল ও নগদ টাকাসহ প্রায় পাঁচ লাখ টাকার মালামাল লুট করা হয়েছে। মুদি দোকানি হুমায়ুন কবিরের দোকান ভেঙে শিশুখাদ্য, সয়াবিন তেলসহ প্রায় আট লাখ টাকার মালামাল ও নগদ ৬০ হাজার টাকা লুট করে হামলাকারীরা। এছাড়া পূর্ব পাড়ার বাসিন্দা সিরাজুল ইসলামের আল-মদিনা স্টোর থেকেও প্রায় আট লাখ টাকার মালামাল লুট করা হয়। সিরাজুল ইসলাম এই হামলার জন্য ইসমাইল মেম্বারের যোগসাজশ রয়েছে বলে অভিযোগ করেন।
ছাতারপাইয়া বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আবদুল আহাদ জানান, দুই পক্ষের এই বিরোধে ৭০টির বেশি দোকান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং অনেক বৈদ্যুতিক মিটার ভেঙে ফেলা হয়েছে। তিনি জানান, নোয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য জয়নুল আবদিন ফারুক এ বিষয়ে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে একটি মতবিনিময় সভা করবেন।
এ বিষয়ে কথা বলার জন্য ইউপি চেয়ারম্যান আবদুর রহমানের কার্যালয়ে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে তাকে বাজারের ব্যবসায়ীদের লাঠি হাতে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিতে দেখা গেছে। অন্যদিকে, প্যানেল চেয়ারম্যান ইসমাইল মেম্বারের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
ঘটনার বিষয়ে সেনবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুর রহিম সরকার সংবাদমাধ্যমকে জানান, পূর্ব পাড়া ও পশ্চিম পাড়ার বাসিন্দাদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় বিভিন্ন দোকানে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গিয়ে পুলিশের দুই কর্মকর্তা আহত হন। তবে কোনো পক্ষ থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।