সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

জঙ্গল সলিমপুরে সন্ত্রাসীদের শেষ আস্তানা নির্মূল করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

একুশে প্রতিবেদক | প্রকাশিতঃ ৩১ মে ২০২৬ | ২:৪৮ অপরাহ্ন


চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরে রাষ্ট্রকে চ্যালেঞ্জ করার মতো দুঃসাহস দেখানো সন্ত্রাসীদের শেষ আস্তানা নির্মূল করার ঘোষণা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হলেও সাধারণ বাসিন্দাদের কাউকে উচ্ছেদ করা হবে না, বরং তাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হবে।

রোববার (৩১ মে) চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুর এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এসময় তার সঙ্গে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী এবং পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরসহ প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “রাষ্ট্রকে চ্যালেঞ্জ করার মতো যে দুঃসাহস সন্ত্রাসীরা দেখিয়েছে সেটাকে আমরা যথাযথভাবে অ্যাড্রেস করব। সন্ত্রাসীরা যেখানেই আশ্রয় নিয়ে থাকুক না কেন, তাদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে” । সলিমপুর ও আলীনগর এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে এনে শান্তি প্রতিষ্ঠা করাই সরকারের মূল লক্ষ্য।

এলাকার উন্নয়ন পরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি জানান, এই অঞ্চলে উন্নত সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে। এছাড়া কারাগার ও বিভিন্ন সরকারি একাডেমির জন্য জায়গা নির্ধারণ করে উন্নয়নমূলক কাজ শুরু করা হবে। তিনি আশ্বস্ত করেন যে, সরকারি স্থাপনা নির্মাণের জন্য কাউকে ‘ডিস্টার্ব’ করা হবে না এবং কোনো বসতি উচ্ছেদ করা হবে না।

চট্টগ্রামের এই বৈঠককে ‘হাইয়েস্ট লেভেল মিটিং’ হিসেবে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, জনপ্রত্যাশা অনুযায়ী দেশে কার্যকরভাবে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে সরকার বদ্ধপরিকর। সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্য যেখানেই থাকুক, তা গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে।

সম্প্রতি জঙ্গল সলিমপুরের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে এই পরিদর্শন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উল্লেখ্য, গত ২৪ মে রাতে একদল সন্ত্রাসী জঙ্গল সলিমপুরে যৌথ বাহিনীর ক্যাম্পে হামলা চালায় এবং একটি নির্মাণাধীন ক্যাম্প বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেয়। এমনকি পুলিশের পথ রোধ করতে তারা রাস্তা কেটে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছিল।

এর আগে গত ১৯ জানুয়ারি সন্ত্রাসীদের হামলায় র‍্যাবের উপসহকারী পরিচালক (ডিএডি) মোতালেব হোসেন ভূঁইয়া নিহত হন। সেই ঘটনার পর গত ৯ মার্চ সেনাবাহিনী, পুলিশ, র‍্যাব ও বিজিবির প্রায় ৪ হাজার সদস্যের সমন্বয়ে ওই এলাকায় একটি বড় ধরনের সাঁড়াশি অভিযান চালানো হয়েছিল।

রোববারের পরিদর্শনে চট্টগ্রামের সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, স্থানীয় সংসদ সদস্যবৃন্দ, বিজিবির মহাপরিচালক, আইজি প্রিজন, বিভাগীয় কমিশনার এবং সিএমপি কমিশনারসহ সামরিক ও বেসামরিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। মন্ত্রী আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় গণমাধ্যমের সহযোগিতা কামনা করে বলেন, সঠিক তথ্য দিয়ে সহায়তা করলে অপরাধীদের নির্মূল করা সহজ হবে।