সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল তিন বছর বাড়ানোর সুপারিশ সিডিপির

একুশে প্রতিবেদক | প্রকাশিতঃ ২ জুন ২০২৬ | ৯:১৯ অপরাহ্ন


স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের প্রস্তুতিকাল আরও তিন বছর বাড়ানোর অনুরোধ ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করেছে জাতিসংঘ।

জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসি (সিডিপি) এই সময়সীমা বাড়ানোর সুপারিশ করেছে।

অর্থ মন্ত্রণালয় মঙ্গলবার এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানিয়েছে।

বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর গত ১৮ ফেব্রুয়ারি জাতিসংঘের সিডিপির কাছে এলডিসি থেকে উত্তরণের প্রস্তুতিকাল ২০২৯ সালের ২৪ নভেম্বর পর্যন্ত বাড়ানোর অনুরোধ জানানো হয়।

পরে গত ৬ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ বিষয়ে জাতিসংঘ মহাসচিবের কাছে চিঠি দিয়ে তার ব্যক্তিগত সহযোগিতা কামনা করেন।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সিডিপির চেয়ারম্যান অধ্যাপক হোসে আন্তোনিও ওকাম্পো বাংলাদেশ সরকারকে জানিয়েছেন, কমিটির মূল্যায়ন অনুযায়ী বাংলাদেশের প্রস্তুতিকাল বৃদ্ধি করা জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের জন্য যথাযথ হবে।

তবে এ সময়ে বিদ্যমান কাঠামোগত দুর্বলতাগুলো কাটাতে বাংলাদেশকে গুরুত্বপূর্ণ অভ্যন্তরীণ সংস্কার কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করতে হবে বলে জানানো হয়েছে।

সিডিপি জানায়, বাংলাদেশ এলডিসি উত্তরণের তিনটি সূচকেই নির্ধারিত মানদণ্ড অতিক্রম করেছে এবং এখান থেকে পিছিয়ে পড়ার ঝুঁকি অত্যন্ত কম।

তবে সাম্প্রতিক মধ্যপ্রাচ্য সংকট, বৈশ্বিক জ্বালানি ও সরবরাহ ব্যবস্থার অনিশ্চয়তা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের পরিবর্তন দেশের উত্তরণ প্রস্তুতিতে প্রভাব ফেলতে পারে।

এলডিসি থেকে উত্তরণে বাংলাদেশ সরকারের একটি মসৃণ উত্তরণ কৌশল বা এসটিএস রয়েছে। সিডিপি এই কৌশল বাস্তবায়নে সরকারের প্রতিশ্রুতিকে স্বাগত জানিয়েছে।

কমিটি মনে করে, প্রস্তুতি পর্ব বাড়লে বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতির প্রভাব ভালোভাবে মূল্যায়ন এবং উত্তরণ-পরবর্তী বাজার সুবিধা ও আন্তর্জাতিক সহায়তার জন্য যথাযথ প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।

পাশাপাশি সহজ শর্তে অর্থায়ন, কারিগরি সহায়তা এবং বাণিজ্য সক্ষমতা বৃদ্ধিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অব্যাহত সহযোগিতার ওপরও জোর দিয়েছে সিডিপি।

অভ্যন্তরীণ সংস্কারের ক্ষেত্রে আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা, কর আহরণ বৃদ্ধি, উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো এবং বেসরকারি খাতকে প্রস্তুত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ সরকার সিডিপির এই ইতিবাচক মূল্যায়ন ও সুপারিশকে স্বাগত জানিয়েছে।

এর আগে সোলোমন দ্বীপপুঞ্জ গৃহযুদ্ধ ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণ দেখিয়ে এলডিসি উত্তরণের সময় তিন বছর পিছিয়েছিল। এছাড়া মালদ্বীপ ও নেপালও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে বাড়তি সময় পেয়েছিল।

জাতিসংঘের নিয়ম অনুযায়ী, তিন বছর পরপর এলডিসিভুক্ত দেশগুলোর মূল্যায়ন করা হয়। মাথাপিছু আয়, মানবসম্পদ এবং জলবায়ু ও অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা—এই তিন সূচকের ভিত্তিতে উত্তরণের যোগ্যতা নির্ধারণ করা হয়।

বাংলাদেশ ১৯৭৫ সালে এলডিসি তালিকাভুক্ত হয়। ২০১৮ ও ২০২১ সালের মূল্যায়নে উত্তীর্ণ হওয়ার পর ২০২৪ সালে বাংলাদেশের এলডিসি থেকে বের হওয়ার কথা ছিল।

তবে করোনাভাইরাস মহামারির কারণে প্রস্তুতির জন্য দুই বছর সময় বাড়ানো হয়েছিল। এবার নতুন করে প্রস্তুতিকাল আরও তিন বছর বাড়ল।