
চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় কিশোর গ্যাংবিরোধী বিশেষ অভিযান চালিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।
অভিযানে এখন পর্যন্ত পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে।
মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর থেকে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এই অভিযান শুরু হয়।
সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খোন্দকার মাহমুদুল হাসানের নেতৃত্বে পরিচালিত এই অভিযানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও আনসারের সদস্যরা অংশ নেন।
মঙ্গলবার রাত সোয়া ১০টা পর্যন্ত এই অভিযান চলছিল বলে নিশ্চিত করেছেন খোন্দকার মাহমুদুল হাসান।
প্রশাসন সূত্র জানায়, সম্প্রতি ‘DH-69’ নামের একটি কিশোর গ্যাং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অস্ত্র প্রদর্শন ও ভয়ভীতি ছড়িয়ে আতঙ্ক তৈরি করে।
কেরানীহাট এলাকায় তাদের প্রকাশ্যে মহড়ার ছবি ও ভিডিও ফেসবুক এবং টিকটকে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ দেখা দেয়।
এ নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর প্রশাসন বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে অভিযানে নামে।
কেরানীহাট, ছদাহা ও বাজালিয়ার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থান, বাজার এবং কিশোরদের আড্ডাস্থলে অভিযান চালিয়ে ওই পাঁচজনকে আটক করা হয়।
ইউএনও খোন্দকার মাহমুদুল হাসান জানান, কিশোর গ্যাংয়ের নামে কোনো ধরনের ভয়ভীতি, মহড়া বা বেআইনি কর্মকাণ্ড বরদাশত করা হবে না।
তিনি জানান, আটক হওয়া ব্যক্তিদের অভিভাবকদের ডাকা হয়েছে। কিশোররা অনেক সময় না বুঝে বা বন্ধুদের প্রভাবে অপরাধে জড়ায়, তাই প্রথমে অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলা হচ্ছে।
তবে কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের প্রমাণ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সতর্ক করেন খোন্দকার মাহমুদুল হাসান।
কিশোর গ্যাং প্রতিরোধে প্রশাসন ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করবে জানিয়ে তিনি স্থানীয়দের তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান।
পরিচয় গোপন রেখেও আশপাশের অস্ত্র প্রদর্শন, মাদকসেবন বা জনশৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডের তথ্য প্রশাসনকে দেওয়া যাবে বলে জানান তিনি।
প্রশাসন জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিদের বিষয়ে যাচাই-বাছাই চলছে এবং কিশোর গ্যাং নির্মূলে আগামী দিনগুলোতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।