
কক্সবাজারের চকরিয়া সংলগ্ন লামা উপজেলার আজিজনগরে সাংবাদিক কায়সার হামিদের বাড়িতে দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করার তিন ঘণ্টা পর পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর অভিযোগ উঠেছে আজিজনগর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আমিনুর রহিমের বিরুদ্ধে।
শনিবার ভোর ৪টার দিকে আজিজনগর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের রোডপাড়ায় এই ঘটনা ঘটে। কায়সার হামিদ দৈনিক সমকাল পত্রিকার লোহাগাড়া প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত।
সাংবাদিক কায়সার হামিদ জানান, ভোররাতে ৮ থেকে ১০ জনের একটি ডাকাত দল তাদের বাড়িতে হানা দেয়। এ সময় তিনজন ডাকাত ছাদ বেয়ে ভেতরে প্রবেশ করে তার মা-বাবাকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে।
পরে তারা আলমারি ভেঙে গরু বিক্রির নগদ ১ লাখ ৪৫ হাজার টাকা, লক্ষাধিক টাকার স্বর্ণালংকার এবং একটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন লুট করে। বাকি ডাকাতরা বাড়ির বাইরে অবস্থান করে আশপাশের ঘরগুলোর গতিবিধি লক্ষ্য করছিল।
পেশাগত কারণে কায়সার হামিদ পরিবার নিয়ে লোহাগাড়ায় থাকেন। ঘটনার দিন ওই বাড়িতে কেবল তার বৃদ্ধ বাবা-মা ছিলেন।
কায়সার হামিদ আরও জানান, ফাঁড়ি থেকে মাত্র ৫ মিনিটের দূরত্বে তাদের বাড়ি। ডাকাতি চলাকালে ফাঁড়ির ইনচার্জ (আইসি) আমিনুর রহিমকে ১০ থেকে ১২ বার ফোন করেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে তিনি তখন গভীর ঘুমে ছিলেন।
এরপর ৯৯৯ এ কল দেওয়ার ১৫ থেকে ২০ মিনিট পর আইসি আমিনুর রহিম কল ব্যাক করেন। তখন তাকে ফোর্স নিয়ে আসার অনুরোধ করা হলেও তিনি ডাকাতি শেষ হওয়ার তিন ঘণ্টা পর সকাল ৭টার দিকে ঘটনাস্থলে আসেন।
এলাকাবাসী জানান, আজিজনগর ও চকরিয়ার হারবাং ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী এলাকায় গত ১০ দিনে পাঁচটি ডাকাতি হয়েছে। কিন্তু লামা বা চকরিয়া থানা পুলিশের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
এ বিষয়ে লামা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ শাহজাহান কামাল জানান, খবর শোনার পরই ফাঁড়ির একটি দল পাঠানো হয়েছিল। অসহযোগিতার বিষয়ে তিনি বলেন, ফাঁড়ির ইনচার্জকে ইতোমধ্যে বকাঝকা করা হয়েছে।
অন্যদিকে, চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনির হোসেন জানান, উত্তর হারবাং এলাকায় কয়েকদিন আগে ডাকাতির ঘটনা শুনেছেন এবং একটি মামলাও নেওয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে।