সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

হালদার একপাড়ে জিও ব্যাগ, অন্যপাড়ে চলছে মাটি লুট

একুশে প্রতিবেদক | প্রকাশিতঃ ৬ জুন ২০২৬ | ৮:০১ অপরাহ্ন


এশিয়ার একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র হালদা নদীর একপাড়ে ভাঙন রোধে ফেলা হচ্ছে জিও ব্যাগ। কিন্তু নদীর ঠিক অন্যপাড়ে রাতের আঁধারে স্কেভেটর দিয়ে পাড় কেটে মাটি লুট করছে একটি প্রভাবশালী চক্র। চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার সুন্দরপুর ইউনিয়নের পাঁচপুকুরিয়া এলাকায় এই বিপরীতমুখী চিত্র দেখা গেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সুয়াবিল ইউনিয়ন অংশে পানি উন্নয়ন বোর্ডের জিও ব্যাগ ফেলার কাজ চললেও বিপরীত পাশে অবাধে নদীর পাড় কাটা হচ্ছে। স্থানীয় আব্দুল জব্বার, সরওয়ার কামাল, মো. আকবর ও কুদ্দুসসহ কয়েকজনের একটি চক্র রাত ১২টার পর থেকে ভোর পর্যন্ত এই মাটি লুট করছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, পাঁচপুকুরিয়া-সিদ্ধাশ্রম নির্মাণাধীন সেতুর উত্তর পাশে সুয়াবিল অংশে পাড় রক্ষার কাজ চলছে। অথচ সুন্দরপুর অংশে ৫ থেকে ১০ ফুট গভীর গর্ত করে নদীর পাড় কাটা হয়েছে। এসব মাটি বিক্রি করে বিভিন্ন ভিটা ও পুকুর ভরাট করা হচ্ছে।

প্রবাসী ইব্রাহিমের ভিটায় হালদার পাড় কেটে আনা বালু মিশ্রিত মাটি দেখা যায়। প্রথমে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে গেলেও পরে স্বীকার করেন যে তার ভাইয়ের ভিটা ভরাটের জন্য এই মাটি আনা হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় ব্যক্তি জানান, তিন-চার দিন ধরে রাতে গাড়ি করে মাটি নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। প্রতিবাদ করলে চক্রটি ভয়ভীতি দেখায়। প্রশাসনের নাকের ডগায় এসব চললেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে আব্দুল জব্বার, সরওয়ার কামাল, মো. আকবর এবং কুদ্দুস মাটি কাটার সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়টি অস্বীকার করে জানান, কারা এসব করছে তা তারা জানেন না।

নদী পাড় কাটার বিষয়ে সাংবাদিক সিফায়েতুল্লাহ সিফাত জানান, নদীর স্বাভাবিক গঠন পরিবর্তন করলে জলজ প্রাণী ও পরিবেশের দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি হবে। তিনি জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

চট্টগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. সোহাগ তালুকদার বলেন, পাড় কাটলে নদীভাঙন ও গতিপথ পরিবর্তনের মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি হয়। সরকারের নদীভাঙন রোধের কাজের বিপরীতে এ ধরনের অপরাধে প্রশাসনের ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

হালদা নদী গবেষক ও বিজিসি ট্রাস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মনজুরুল কিবরিয়া জানান, হালদা নদীতে সব বালুমহলের ইজারা নিষিদ্ধ এবং এটি হেরিটেজ হিসেবে সংরক্ষিত। তাই পাড় কাটা আইনত শাস্তিযোগ্য অপরাধ। তিনি প্রশাসন ও স্থানীয়দের এ বিষয়ে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান।

সার্বিক বিষয়ে ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহিম জানান, বিষয়টি তিনি আগে জানতেন না। তবে এখন খোঁজ নিয়ে দ্রুত অভিযান চালানোর চেষ্টা করবেন।