সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

পাঁচ মাস পর স্বজনদের কাছে ফিরছেন ৯১ বাংলাদেশি জেলে

কুতুবদিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি | প্রকাশিতঃ ৭ জুন ২০২৬ | ৬:২০ অপরাহ্ন


দীর্ঘ প্রায় পাঁচ মাসের অনিশ্চয়তা, বন্দিদশা ও আইনি প্রক্রিয়ার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে দেশে ফিরছেন ভারতে আটক থাকা ৯১ জন বাংলাদেশি মৎস্যজীবী। ভারতের দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফ্রেজারগঞ্জ মৎস্যবন্দর থেকে চারটি মাছ ধরার ট্রলারসহ তাদের বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে পাঠানো হয়েছে।

সোমবার (৮ জুন) সকালে মোংলা বন্দরের অদূরে সমুদ্রের আন্তর্জাতিক জলসীমায় বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের কাছে তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হবে।

জানা গেছে, গত জানুয়ারি মাসে গভীর সমুদ্রে মাছ ধরার সময় দিকভ্রান্ত হয়ে চারটি বাংলাদেশি ট্রলার আন্তর্জাতিক জলসীমা অতিক্রম করে ভারতীয় জলসীমায় প্রবেশ করে। এ সময় ভারতীয় উপকূলরক্ষী বাহিনী ট্রলারসহ ৯১ জন জেলেকে আটক করে পশ্চিমবঙ্গের ফ্রেজারগঞ্জ কোস্টাল থানার পুলিশের কাছে সোপর্দ করে। পরে আদালতের নির্দেশে আটক জেলেদের ভারতের বিভিন্ন কারাগারে রাখা হয়। দীর্ঘ চার মাসের বেশি সময় কারাভোগের পর দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মধ্যে কূটনৈতিক ও প্রশাসনিক পর্যায়ের যোগাযোগের মাধ্যমে তাদের মুক্তির প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।

শনিবার (৬ জুন) ফ্রেজারগঞ্জ মৎস্যবন্দর থেকে ভারতীয় কোস্ট গার্ডের তত্ত্বাবধানে চারটি ট্রলার নিয়ে বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেন মুক্তিপ্রাপ্ত জেলেরা। এ সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশ হাইকমিশনের প্রতিনিধি, ভারতীয় কোস্ট গার্ডের কর্মকর্তাসহ স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

কক্সবাজারের কুতুবদিয়া উপজেলার বড়ঘোপ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আ ন ম শহীদ উদ্দিন ছোটন জানান, সোমবার সকালে মোংলা বন্দরের কাছাকাছি আন্তর্জাতিক জলসীমায় ভারতীয় কোস্ট গার্ড আনুষ্ঠানিকভাবে জেলেদের বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের কাছে হস্তান্তর করবে।

তিনি আরও জানান, মুক্তিপ্রাপ্ত ৯১ জন জেলের অধিকাংশই কক্সবাজারের দ্বীপ উপজেলা কুতুবদিয়ার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা। দীর্ঘদিন পর স্বজনদের কাছে ফিরে আসার খবরে তাদের পরিবারগুলোর মধ্যে স্বস্তি ও আনন্দের পরিবেশ বিরাজ করছে।

স্থানীয়দের মতে, জীবিকার তাগিদে গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে গিয়ে প্রায়ই জেলেরা আন্তর্জাতিক জলসীমা সম্পর্কে সঠিক ধারণার অভাবে বিপাকে পড়েন। সংশ্লিষ্টদের দাবি, ভবিষ্যতে এমন ঘটনা এড়াতে জেলেদের জন্য আধুনিক নৌ-নির্দেশনা ব্যবস্থা ও প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা জরুরি।