সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

বাঁশখালীতে লবণ ব্যবসাকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুপক্ষের সংঘর্ষ, অফিস ভাঙচুর

বাঁশখালী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি | প্রকাশিতঃ ৭ জুন ২০২৬ | ১০:৪৪ অপরাহ্ন


চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে আক্তার হোসেন ওরফে আক্তার মাঝি নামের এক লবণ ব্যবসায়ীকে মারধরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুটি গ্রুপের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। এই ঘটনার জেরে ছনুয়া ইউনিয়নের শরীফিয়াপাড়া এলাকায় দুপক্ষ এখন মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শরীফিয়াপাড়া এলাকার বোরহান উদ্দিন মিজান মিয়ার লবণ মাঠের চাষী মোস্তফা আলম সম্প্রতি আক্তার হোসেনের কাছে ৩০০ মণ লবণ বিক্রি করেন। বৃহস্পতিবার রাতে কেনা লবণ নিয়ে যাওয়ার সময় মিজান মিয়ার অনুগত নুরুল আবছার ওরফে দালাল আবছারের নেতৃত্বে একদল লোক বাধা দেয়। মোস্তফা আলমের কাছে টাকা পাওনার দাবি করে তারা ব্যবসায়ী আক্তার হোসেনসহ পরিবহন শ্রমিকদের মারধর করে। অভিযুক্ত নুরুল আবছার একই এলাকার মৃত মৌলভী মোকাদ্দেছের ছেলে এবং ভুক্তভোগী আক্তার হোসেন আলী হোছনের ছেলে।

এই ঘটনার জেরে শনিবার বিকেলে ছনুয়া মনুমিয়াজী বাজারে গেলে ছনুয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল কাদেরের নেতৃত্বে দ্বিতীয়বার আক্তার হোসেনের ওপর হামলা হয়।

ছনুয়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক ইউপি সদস্য আলী হোসেন ওরফে আলী মেম্বার জানান, আহত আক্তার মাঝিকে স্থানীয় এক পল্লী চিকিৎসকের কাছে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে বাঁশখালী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) গোলাম সরওয়ার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। ভুক্তভোগী আক্তার হোসেন জানান, ফজলুল কাদেরের নেতৃত্বে সন্ত্রাসীরা তাকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়েছে। তিনি প্রশাসনের কাছে ন্যায়বিচার দাবি করেছেন।

এদিকে, এই লবণ বিক্রির বিরোধ শেষ পর্যন্ত দলীয় কার্যালয় ভাঙচুরে গড়ায়। শনিবার রাতে ইউনিয়ন বিএনপির কার্যালয় ভাঙচুর করা হয়, যার দায় আওয়ামী লীগের ওপর চাপানোর চেষ্টা করে বিএনপির একাংশ। তবে আলী হোসেন অভিযোগ করেন, নিরীহ ব্যবসায়ী আক্তার হোসেনকে ফাঁসাতে বোরহান উদ্দিন মিজান মিয়া নিজের কাচারি ঘরে অবস্থিত দলীয় কার্যালয়টি নিজেই ভাঙচুর করেছেন এবং তাকে গ্রেপ্তার করতে পুলিশ পাঠিয়েছেন।

লবণ চাষী মোস্তফা আলম জানান, তিনি মিজান মিয়ার বর্গা চাষী। মিজান মিয়া তার কাছে কিছু টাকা পাবেন। কিন্তু এর জন্য লবণ ক্রেতা আক্তার হোসেনকে মারধর করা সম্পূর্ণ অন্যায়।

এ বিষয়ে ছনুয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি বোরহান উদ্দিন মিজান মিয়া জানান, মোস্তফা আলমের কাছে পাওনা টাকা থাকায় তিনি লবণ নিতে বাধা দিয়েছেন। অফিস ভাঙচুরের বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না এবং পুলিশ প্রশাসনের উদ্যোগেই সেখানে গেছে বলে দাবি করেন তিনি।

এ বিষয়ে বাঁশখালী থানার এসআই গোলাম সরওয়ারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে বাঁশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল হক জানান, এক পক্ষের মৌখিক অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল এবং ভাঙচুরের প্রমাণ পাওয়া গেছে। প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনে পুলিশ কাজ করছে এবং লিখিত অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।