
কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার খুটাখালীতে দুটি যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে এক বাসচালক ও আট মাস বয়সী এক শিশু নিহত হয়েছে। এই ঘটনায় উভয় বাসের অন্তত ৩৫ জন যাত্রী আহত হয়েছেন।
দুর্ঘটনার পর মহাসড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে অন্তত দেড় ঘণ্টা কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকে এবং আটকে পড়া যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
সোমবার (৮ জুন) বিকেল ৪টার দিকে কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চকরিয়ার খুটাখালী ইউনিয়নের মেধাকচ্ছপিয়া এলাকায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন বাসের চালক মোহাম্মদ আলী (২৫) এবং আট মাস বয়সী শিশু মোহাম্মদ ইয়াহি। মোহাম্মদ আলী কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার মরিচ্যা ২ নম্বর ওয়ার্ডের পাগলিরবীল এলাকার নুরুল ইসলামের ছেলে। অন্যদিকে শিশু ইয়াহি বান্দরবানের লামা উপজেলার ফাইতং ইউনিয়নের বাসিন্দা মঞ্জুর আলমের ছেলে।
দুর্ঘটনায় আহতদের মধ্যে ১১ জনের পরিচয় শনাক্ত করেছে হাইওয়ে পুলিশ। তারা হলেন—মোহাম্মদ ইসমাইল (২৬), সিফাত (২৪), মো. জাহাঙ্গীর আলম (৩৫), নাইম (২৫), মাবুদ আব্দুল (৪০), জোসনা আক্তার (২৬), জনি (২৮), মো. আলী (৪৪), ইমা (১২), ফাতেমা বেগম (২৮) এবং মো. রফিকুল ইসলাম (৩৮)।
মালুমঘাট হাইওয়ে থানার ওসি মাহবুবুর রহমান জানান, আহতদের মধ্যে ইসমাইল ও সিফাতসহ চারজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয় লোকজন ও মালুমঘাট হাইওয়ে থানা সূত্রে জানা যায়, সোমবার বিকেলে মহাসড়কের মেদাকচ্ছপিয়া এলাকায় কক্সবাজারমুখী চকরিয়া সার্ভিস পরিবহনের (শরিফ এন্টারপ্রাইজ) একটি বাসের সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা এভারগ্রিন পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।
সংঘর্ষে দুটি বাসই দুমড়েমুচড়ে যায়। এর মধ্যে একটি বাস সড়কে উল্টে গিয়ে সেটির ছাদ খুলে যায়। খবর পেয়ে হাইওয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহায়তায় উদ্ধার তৎপরতা চালায়।
আহত যাত্রীদের উদ্ধার করে নিকটস্থ মালুমঘাট মেমোরিয়াল খ্রিষ্টান হাসপাতাল এবং চকরিয়া সরকারি হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে হাইওয়ে পুলিশ দুর্ঘটনাকবলিত বাস দুটি সরিয়ে নিলে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
মালুমঘাট হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহাবুবর রহমান জানান, দুর্ঘটনাকবলিত বাস দুটি জব্দ করা হয়েছে। এ বিষয়ে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।