সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

চকরিয়া থেকে অপহৃত ৫ কিশোর-যুবককে টেকনাফ থেকে উদ্ধার

চকরিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি | প্রকাশিতঃ ৯ জুন ২০২৬ | ৬:৪২ পূর্বাহ্ন


মালয়েশিয়া পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে কক্সবাজারের চকরিয়া থেকে অপহৃত পাঁচ কিশোর-যুবককে টেকনাফের জিন্মিদশা থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণের দাবিতে একটি অপহরণকারী চক্র তাদের আটকে রেখেছিল।

সোমবার দিবাগত রাত একটার দিকে কক্সবাজার জেলা পুলিশের অফিসিয়াল ফেসবুক পেইজে উদ্ধার হওয়া কিশোর-যুবকদের ছবি প্রকাশ করে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন জেলা পুলিশ সুপার এএনএম সাজেদুর রহমান।

কক্সবাজার জেলা পুলিশের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, চকরিয়া থেকে অপহরণের ঘটনায় ৮ জুন মানব পাচার আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলা রুজুর ২৪ ঘণ্টার মধ্যে টেকনাফ মডেল থানা পুলিশের একটি চৌকস দল টেকনাফ সদর ইউনিয়নের রাজারছড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে অপহৃত পাঁচজনকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। আইনি প্রক্রিয়া শেষে পুলিশ উদ্ধার হওয়া কিশোর-যুবকদের নিজ নিজ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছে। এ ঘটনায় জড়িত আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার এএনএম সাজেদুর রহমান।

গত ৩১ মে চকরিয়া উপজেলার সুরাজপুর মানিকপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ সুরাজপুর এলাকা থেকে চারজন এবং বমু বিলছড়ি ইউনিয়ন থেকে দুজনসহ মোট ছয়জনকে মালয়েশিয়া পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে অপহরণকারীরা নিজেদের আস্তানায় আটকে রাখে। এরপর তাদের পরিবারের কাছে পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়।

অপহৃতরা হলেন— শাহারিয়ার কবির সোহাগ, মোহাম্মদ শহীদ হোসেন, মোহাম্মদ মাহিম, ইসাদুল হোছাইন হামিম, নুরুল আমিন মনু এবং মো. সিফাত। এর মধ্যে প্রথম চারজন চকরিয়া উপজেলার কাকারা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

এ ঘটনায় অপহৃতদের পরিবারের পক্ষ থেকে চকরিয়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। অভিযোগে কাকারা ইউনিয়নের বাসিন্দা মোহাম্মদ ইউসুফ, তার ছেলে ইসরাক হোসেন এবং স্ত্রী তানিয়া বেগমকে আসামি করা হয়েছে।

চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনির হোসেন জানান, পরিবারের লিখিত অভিযোগ আমলে নিয়ে অপহৃতদের উদ্ধারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়। এক সপ্তাহ ধরে সোর্স লাগিয়ে অপহরণকারীদের অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পর সোমবার চকরিয়া থানায় মানব পাচার আইনে মামলাটি করা হয়।

মোহাম্মদ মনির হোসেন আরও জানান, মামলা হওয়ার পর পুলিশ সুপার এএনএম সাজেদুর রহমানের নির্দেশে টেকনাফ মডেল থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে ওই পাঁচজনকে উদ্ধার করে। মানব পাচার আইনের মামলার আসামিদের গ্রেপ্তার এবং অপহৃত ছয়জনের মধ্যে বাকি একজনকে উদ্ধারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।