সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

কুড়িয়ে পাওয়া ২০ লাখ টাকা ফেরত দিলেন নৈশপ্রহরী

ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি | প্রকাশিতঃ ১১ জুন ২০২৬ | ৬:২৪ অপরাহ্ন


চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার নাজিরহাট বাজারে রাতের অন্ধকারে কুড়িয়ে পাওয়া ২০ লাখ টাকা প্রকৃত মালিককে ফেরত দিয়ে সততার এক বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন এক নৈশপ্রহরী।

বুধবার মধ্যরাতে স্থানীয়দের উপস্থিতিতে প্রকৃত মালিকের হাতে তিনি ওই টাকা তুলে দেন। সততার অনন্য এই দৃষ্টান্ত স্থাপন করা নৈশপ্রহরীর নাম মো. নুরুল আলম বাঁচা (৪৪)। তিনি নাজিরহাট পৌরসভার বাবুনগর গ্রামের মাইজ্যা মিয়াজির বাড়ির মৃত কবির আহাম্মদের ছেলে। বর্তমানে তিনি নাজিরহাট পৌরসভার নৈশপ্রহরী হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রতিদিনের মতো বুধবার রাত সোয়া বারোটার দিকে দায়িত্ব পালনের সময় নাজিরহাট বাজারের সোসাইটির মাঠের সামনে সড়কে একটি পরিত্যক্ত ব্যাগ দেখতে পান মো. নুরুল আলম বাঁচা। ব্যাগটি খুলে ভেতরে বিপুল পরিমাণ টাকা দেখতে পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে তিনি সেটি পৌরসভার কার্যালয়ের একটি কক্ষে নিরাপদে সংরক্ষণ করেন। এরপর তিনি টাকার প্রকৃত মালিকের সন্ধান করতে থাকেন। একপর্যায়ে তিনি জানতে পারেন, ওই টাকাগুলো নাজিরহাট বাজারের এম আর জুয়েলার্সের মালিক ব্যবসায়ী দুর্লভ ধরের।

পরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে নাজিরহাট পৌরসভার কর্মচারী মো. ওমর ফারুক এবং স্থানীয় ব্যবসায়ী মামুন, জিকু, নির্জন, রিপন ও রাজেশের উপস্থিতিতে ব্যবসায়ী দুর্লভ ধরের হাতে টাকাগুলো হস্তান্তর করেন তিনি।

এ বিষয়ে নৈশপ্রহরী মো. নুরুল আলম বাঁচা জানান, পরিত্যক্ত ব্যাগটি পাওয়ার পর তিনি সেটি পৌর কার্যালয়ে নিরাপদ জোনে নিয়ে আসেন। কারও হারানো টাকা বুঝতে পেরে তিনি প্রথমে বিষয়টি নিশ্চিত হন এবং পৌর কার্যালয়ের সহকর্মীদের জানান। পরে রাত সাড়ে তিনটার দিকে সবার উপস্থিতিতে টাকাভর্তি ব্যাগটি মালিকের হাতে তুলে দেন।

নাজিরহাট পৌরসভার কর্মচারী মো. ওমর ফারুক জানান, টাকা কুড়িয়ে পাওয়ার বিষয়টি নৈশপ্রহরী তাকে জানিয়েছিলেন। পরে সবার উপস্থিতিতে টাকার পরিমাণ মিলিয়ে দেখে তা ওই ব্যবসায়ীর হাতে তুলে দেওয়া হয়। এ সময় ওই ব্যবসায়ীর পক্ষ থেকে নৈশপ্রহরীকে খুশি হয়ে বকশিশও দেওয়া হয়।

হারানো টাকা ফেরত পেয়ে উচ্ছ্বসিত ব্যবসায়ী দুর্লভ ধর জানান, টাকাগুলো হারিয়ে গভীর রাতে তিনি দিশেহারা হয়ে পড়েছিলেন, কারণ এগুলো ছিল গ্রাহকের আমানত। বর্তমান সময়ে এমন সততায় ভরা মানুষ বিরল উল্লেখ করে তিনি বলেন, নৈশপ্রহরী সততার এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও অনেকে এই নৈশপ্রহরীর ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। সাধারণ মানুষ বলছেন, ছোট পেশায় যুক্ত থাকলেও তিনি হৃদয়ের বিশালতা দিয়ে সততার এক অনন্য মানদণ্ড তৈরি করেছেন।