
চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে হালদা নদীর মৎস্য সম্পদ রক্ষা ও উন্নয়নের লক্ষ্যে আয়োজিত এক সভায় নদী দূষণ রোধ, হ্যাচারি স্থাপন এবং অবৈধ দখল উচ্ছেদের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট অংশীজনরা।
বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে এগারটার দিকে উপজেলার উত্তর মাদার্শা ইউনিয়নের বাড়িয়াঘোনার একটি মাদ্রাসা মিলনায়তনে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। হালদা নদীর প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের (দ্বিতীয় পর্যায়) অধীনে মৎস্য অধিদপ্তর চট্টগ্রামের অর্থায়নে হাটহাজারী উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয় সভাটির আয়োজন করে। এতে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. শওকত আলী।
সভায় উপস্থিত ডিম সংগ্রহকারী ও স্থানীয়রা হালদা নদী রক্ষায় বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব তুলে ধরেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো বাড়িয়াঘোনায় ডিম থেকে রেণু উৎপাদনের জন্য একটি হ্যাচারি স্থাপন, ওই এলাকার বিশাল খাস জায়গা থেকে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করে মাছ চাষের জন্য জলাশয় তৈরি এবং দ্বীপ এলাকা বাড়িয়াঘোনাকে বন্যা ও জোয়ারের কবল থেকে রক্ষায় বেড়িবাঁধ নির্মাণ।
এছাড়া নিবন্ধিত ডিম সংগ্রহকারী ও রেণু উৎপাদনকারীদের প্রণোদনা দেওয়া, ক্ষতিগ্রস্ত ডিম সংগ্রহকারীদের মধ্যে রেণু বিতরণ, নদী দূষণমুক্ত রাখতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ, মৎস্য সম্পদ রক্ষায় নৌ পুলিশের টহল জোরদার এবং ভরাট হয়ে যাওয়া নদী খনন করার জোর দাবি জানানো হয়।
সভায় গণমাধ্যমকর্মীদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন কেশব কুমার বড়ুয়া, খোরশেদ আলম শিমুল এবং জাহেদ মঞ্জু। এছাড়া স্থানীয়দের মধ্যে নিজেদের মতামত তুলে ধরেন মো. নাজিম উদ্দিন, আরবান আলী, মো. শাহাবুদ্দিন, লোকমান, ডলি আক্তার, নাসির হায়দারি, জসিম উদ্দিন চৌধুরী, জাহেদ চৌধুরী, এস এম মোদাচ্ছের শাহ, মো. শফিউল আলম এবং নুরুল আলম মফিজ।
আয়োজনে হালদা নদী থেকে ডিম সংগ্রহকারী, রেণু থেকে পোনা উৎপাদনকারী, নিবন্ধিত জেলে, রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, গণমাধ্যম কর্মী এবং স্থানীয় সমাজ সচেতন ব্যক্তিবর্গের পাশাপাশি উপজেলা মৎস্য দপ্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে মৎস্য সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মেহেরুন্নেচ্ছা, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক মো. লোকমান হোসেন এবং ক্ষেত্র সহকারী লিংকন চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।