
পুলিশের পিটুনি ও হেনস্তার শিকার হওয়ার পর থেকে তীব্র বিষণ্ণতায় ভুগছেন জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাঈম হাসান। এ অবস্থা কাটাতে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) চিকিৎসকদের পরামর্শে রোববার (১৪ জুন) বিকেল সাড়ে ৪টায় তাঁকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
রোববার বিকেলে নাঈমের বড় ভাই কামরুল আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, শনিবার সন্ধ্যায় বিসিবির দুই চিকিৎসক নাঈমকে দেখতে তাঁদের চট্টগ্রামের বাসায় যান। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, একা থাকলে ওই রাতের ঘটনা মনে পড়ে নাঈম মানসিক যন্ত্রণায় ভুগবেন। তাই তাঁকে একা না রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়। ঢাকায় অন্যান্য খেলোয়াড়ের সঙ্গে থাকলে তাঁর বিষণ্ণতা কেটে যেতে পারে বলে চিকিৎসকেরা মনে করছেন।
কামরুল আলম আরও বলেন, তাঁদের পরিবারের সঙ্গে ঘটে যাওয়া এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চান তাঁরা। তিনি জানান, খুলশী থানার ওসিকে প্রত্যাহার করার খবর তাঁরা পেয়েছেন। তবে শুধু প্রত্যাহার নয়, এ ঘটনায় ওসির সম্পৃক্ততা থাকলে তাঁকেও আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।
এর আগে গত শুক্রবার রাতে নাঈম হাসান সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে পৌঁছে বিমানবন্দর থেকে অটোরিকশায় বাসায় ফিরছিলেন তিনি। লালখান বাজার এলাকায় পুলিশ গাড়িটি থামায়। এরপর খুলশী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শফিকুল ইসলাম ও পুলিশের সোর্স সোহেল তাঁকে অটোরিকশা থেকে নামিয়ে লাঠি ও পাইপ দিয়ে মারধর করেন।
পরে তাঁকে অটোরিকশায় করে খুলশী থানায় নিয়েও হেনস্তা করা হয়। শেষ পর্যন্ত বিসিবির কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপে তিনি থানা থেকে ছাড়া পান।
এই ঘটনার জেরে খুলশী থানার এসআই শফিকুল ইসলাম ও কনস্টেবল মো. রাসেল চৌধুরীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। শুক্রবার রাতেই তাঁদের দামপাড়া পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়। এ ছাড়া পুলিশের সোর্স সোহেলকে আটক করেছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)।
সবশেষ শনিবার রাতে খুলশী থানার ওসি মো. আরিফুর রহমানকেও থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। পুরো ঘটনাটি তদন্ত করতে সিএমপির পক্ষ থেকে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।