
চট্টগ্রাম নগরের বাকলিয়ায় সাড়ে তিন বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা মামলার রায় বুধবার ঘোষণা করবেন আদালত।
মঙ্গলবার উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে রায়ের জন্য দিন ধার্য করেন চট্টগ্রাম মহানগরের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক সৈয়দা হাফছা ঝুমা।
ট্রাইব্যুনালের রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি মাহমুদ-উল আলম চৌধুরী মারুফ বলেন, মঙ্গলবার মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়েছে। আদালত বুধবার রায় ঘোষণার দিন নির্ধারণ করেছেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, মামলাটির সাক্ষ্যগ্রহণ, আত্মপক্ষ সমর্থন এবং যুক্তিতর্কসহ বিচারিক কার্যক্রম পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। ঘটনার ২৫ দিনের মাথায় মামলার রায় ঘোষণা হতে যাচ্ছে।
গত ১০ জুন সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়ে টানা তিন কার্যদিবসে ১৮ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। পরে আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানিতে একমাত্র আসামি মনির হোসেন নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন। তবে তার পক্ষে কোনো সাফাই সাক্ষী উপস্থাপন করা হয়নি।
মামলার একমাত্র আসামি মনির হোসেন (৩২) কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার ঘারঘাটা এলাকার বাসিন্দা। তিনি চট্টগ্রাম নগরের বাকলিয়ার মিয়াখান নগরে বসবাস করতেন এবং চেয়ারম্যানঘাট এলাকার একটি ডেকোরেটর প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, গত ২১ মে চেয়ারম্যানঘাট এলাকায় সাড়ে তিন বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে তাকে আটক করে পুলিশ। পরদিন ২২ মে আদালতে হাজির করা হলে তিনি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন বলে সে সময় পুলিশ জানিয়েছিল।
ঘটনার পর শিশুটির বাবা বাকলিয়া থানায় মামলা করেন। দুই সপ্তাহ তদন্ত শেষে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও বাকলিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) তানভীর আহমেদ গত ৪ জুন আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন।
অভিযোগপত্রে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধিত ২০০৩)-এর ৯(১) ধারায় মনির হোসেনের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ আনা হয়। মামলায় ২২ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে।
এর আগে ৯ জুন আদালত আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন। পরদিন থেকে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়।