সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পুরস্কার পেলেন পুলিশ পরিদর্শক মাসুদ

চকরিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি | প্রকাশিতঃ ২০ জুন ২০২৬ | ৭:৪৭ অপরাহ্ন


কক্সবাজারের চকরিয়ায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কৃতিত্বপূর্ণ ও প্রশংসনীয় কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ মাতামুহুরী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. মাসুদ এবং তাঁর সঙ্গীয় চার পুলিশ সদস্যকে পুরস্কৃত করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। আলোচিত বসতবাড়িতে ডাকাতি ও মা-মেয়েকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলার রহস্য উদ্‌ঘাটন এবং আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তারে অনন্য ভূমিকা পালনের জন্য তাঁদের এই পুরস্কার দেওয়া হয়।

শনিবার (২০ জুন) দুপুরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে চার পুলিশ সদস্যের পক্ষে পরিদর্শক মো. মাসুদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

থানা-পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১০ জুন রাতে কক্সবাজারের চকরিয়া থানা এলাকার আওতাধীন পূর্ববড় ভেওলা ইউনিয়নের একটি বসতবাড়ির গ্রিল কেটে সংঘবদ্ধ ডাকাত দল নগদ অর্থ ও স্বর্ণালংকার লুট করে। একই সঙ্গে বাড়িতে অবস্থানরত মা ও মেয়ের ওপর পাশবিক নির্যাতন চালিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধ সংঘটিত হয়। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে এবং দ্রুত অপরাধীদের গ্রেপ্তারের দাবি ওঠে।

ঘটনার পরপরই চকরিয়া উপজেলার মাতামুহুরী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ (আইসি) পুলিশ পরিদর্শক মো. মাসুদের নেতৃত্বে একটি বিশেষ দল তদন্ত শুরু করে। ভুক্তভোগীদের উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। এরপর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে অল্প সময়ের মধ্যেই ঘটনায় জড়িত ৭ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে ২ জন আসামি ইতিমধ্যে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়ে অপরাধের দায় স্বীকারও করেছেন।

ত্বরিত গতিতে আলোচিত মামলাটির তদন্তে দক্ষতা, পেশাদারিত্ব ও দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য মাতামুহুরী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ (আইসি) পরিদর্শক মো. মাসুদ, অভিযান পরিচালনাকারী সঙ্গীয় পুলিশের এএসআই সজীব দাস, কনস্টেবল মাহফুজুর রহমান এবং কনস্টেবল হেফাজত হোসেনকে পুরস্কৃত করেছেন চকরিয়া-পেকুয়া (কক্সবাজার-১) আসনের সংসদ সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

বিষয়টি নিশ্চিত করে কক্সবাজারের জেলা পুলিশ সুপার এএনএম সাজেদুর রহমান জানান, পুলিশ সদস্যদের এই সাফল্য অপরাধ দমনে কার্যকর ভূমিকা এবং ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। পাশাপাশি দ্রুত সময়ে জড়িত ডাকাত দলের ৭ সদস্যকে গ্রেপ্তার করে মামলার তদন্তের অগ্রগতি সাধন এবং অপরাধ নির্মূলে সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যরা চকরিয়াবাসীর কাছে প্রশংসিত হয়েছেন।

এর আগে গত ১২ জুন পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি (উপ-পুলিশ মহাপরিদর্শক) মো. মনিরুজ্জামান কর্তৃক ডাকাতি ও মা-মেয়েকে পাশবিক নির্যাতনের ঘটনায় জড়িত ডাকাতদের ধরতে ভূমিকা রাখায় ইন্সপেক্টর মো. মাসুদকে একইভাবে পুরস্কৃত করা হয়েছিল।