সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

সাতকানিয়ায় শ্মশানভূমি দখলের অভিযোগ

একুশে প্রতিবেদক | প্রকাশিতঃ ২২ জুন ২০২৬ | ১০:২১ পূর্বাহ্ন


চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার মধ্যম কাঞ্চনা ইউনিয়নের নন্দীপাড়া এলাকায় একটি বিরোধপূর্ণ জমিকে কেন্দ্র করে দখল, জাল দলিল এবং শ্মশানভূমির অংশে দোকানঘর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে বিবাদীপক্ষ বলছে, তারা বৈধ চুক্তির ভিত্তিতে জমি ব্যবহার করছেন।

অভিযোগকারী বিজয় কুমার নন্দী জানান, জমিটি তাদের পৈতৃক সম্পত্তি এবং বিষয়টি নিয়ে আদালতে একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে।

মামলার নথি ও সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, বিরোধপূর্ণ জমিটি বিএস ৩৪১৭ নম্বর খতিয়ানের ৬৮৫৯ নম্বর দাগভুক্ত। বিজয় কুমার নন্দীদের দাবি, জমিটি দীর্ঘদিন ধরে তাদের নামে নামজারি করা রয়েছে এবং তারা নিয়মিত খাজনা পরিশোধ করে ভোগদখলে আছেন।

অভিযোগে বলা হয়েছে, একই এলাকার রেবতী রঞ্জন নন্দীর ছেলে সমীর নন্দী ওই জমির ওপর মালিকানা দাবি করে তা মো. ওসমানের কাছে হস্তান্তরের উদ্যোগ নেন। পরে সেখানে দোকানঘর নির্মাণের প্রস্তুতি নেওয়া হলে উভয় পক্ষের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়।

এ ঘটনায় বিজয় কুমার নন্দী ২০২৪ সালে সমীর নন্দী, মো. ওসমান, মো. রুবেলসহ কয়েকজনকে বিবাদী করে চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (দক্ষিণ) আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৫ ধারায় মামলা করেন। আদালত সাতকানিয়ার সহকারী কমিশনার (ভূমি)কে তদন্তের নির্দেশ দেন।

অভিযোগকারী জানান, একই বিরোধকে কেন্দ্র করে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আরও একটি মামলা এবং চট্টগ্রামের অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যার্পণ ট্রাইব্যুনালে পৃথক একটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে।

বিজয় কুমার নন্দীর অভিযোগ, মামলাগুলো চলমান থাকা অবস্থায় বিরোধপূর্ণ জমির একটি অংশে দোকানঘর নির্মাণ করা হয়েছে। তার দাবি, ওই অংশটি স্থানীয় শ্মশানভূমির অন্তর্ভুক্ত এবং সেখানে আগে একটি স্মৃতিস্তম্ভ ছিল।

তিনি বলেন, “জমিটি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আদালতে মামলা চলছে। এর মধ্যেই সেখানে স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। বিষয়টি আদালত ও প্রশাসনের নজরে আনা হয়েছে।”

তবে অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন সমীর নন্দী। তিনি বলেন, “আমি আমার দাবি করা পৈতৃক সম্পত্তির অংশ থেকে চার শতক জমি পাঁচ বছরের জন্য মাসিক ভাড়ার ভিত্তিতে মো. ওসমানের কাছে লিজ দিয়েছি। আমি কোনো জমি বিক্রি করিনি। জাল দলিল বা জালিয়াতির অভিযোগও সঠিক নয়।”

মো. ওসমান বলেন, “সমীর নন্দীর সঙ্গে চুক্তির ভিত্তিতে আমি জমি নিয়েছি। কোনো ধরনের জবরদখল বা জালিয়াতির সঙ্গে আমি জড়িত নই। আমি শ্মশানভূমির ওপর দোকানঘর নির্মাণ করিনি। জমির মালিকানা নিয়ে আদালতে যে প্রক্রিয়া চলছে, তার সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হবে।”

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, জমিটি দীর্ঘদিন ধরে নন্দী পরিবারের বিভিন্ন সদস্যের ভোগদখলে রয়েছে বলে তারা জেনে আসছেন। তবে বর্তমানে মালিকানা ও দখল নিয়ে বিরোধ দেখা দিয়েছে এবং বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।

তারা বলেন, বিরোধের নিষ্পত্তি আদালতের মাধ্যমেই হওয়া উচিত এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর উচিত আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা।