সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

ফুটপাত-ড্রেন দখল করে দোকান করলেই ব্যবস্থা: সিডিএ চেয়ারম্যান

একুশে প্রতিবেদক | প্রকাশিতঃ ২২ জুন ২০২৬ | ৪:০০ অপরাহ্ন


চট্টগ্রাম নগরীর অক্সিজেন-কোয়াইশ সড়কে ফুটপাত ও পানি চলাচলের ড্রেন দখল করে অবৈধভাবে দোকানপাট নির্মাণ করায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন। সোমবার (২২ জুন) ওই সড়কের সংস্কারকাজ পরিদর্শনে গিয়ে তিনি এই ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং ফুটপাত ও ড্রেন উচ্ছেদের জন্য সিডিএ কর্মকর্তাদের তাৎক্ষণিক নির্দেশ দেন।

পরিদর্শনকালে সিডিএ চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন বলেন, অপকর্ম করবে কিছু মানুষ, আর সিডিএকে দায় দেওয়া হবে। এই ড্রেনগুলো তো সিডিএর কেউ এসে বন্ধ করেনি। যেখানে রাস্তার পানি নামার কথা, সেখানে পথ বন্ধ করে সড়ককে ড্রেন থেকে উঁচু করে ফেলা হয়েছে। ড্রেনের প্রবেশমুখে ময়লা দিয়ে উঁচু করে ফেলা হয়েছে। এতে আর ঢালু নেই।

জানা যায়, সোমবার সকালে সিডিএ চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন অক্সিজেন-কোয়াইশ সড়কের সংস্কারকাজ পরিদর্শনে যান। পরিদর্শনের শুরুতেই তিনি সড়কটির প্রবেশমুখ থেকে অবৈধভাবে ফুটপাতে বসা কয়েক শ দোকান সরিয়ে দেন।

উপস্থিত অবৈধ দখলদারদের কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, ফুটপাত দখলের কারণে চার লেনের এই রাস্তাটা অনেক ছোট হয়ে গেছে, যার ফলে দুটি গাড়ি একসাথে অতিক্রম করতে পারছে না। এখানে সারি সারি ফল, জুতা ও কাপড়ের দোকান বসানো হয়েছে। পেছনের স্থায়ী দোকানের মালিকরা অবৈধভাবে তাদের কাছ থেকে ভাড়া আদায় করছে, আবার একইসাথে তারা ময়লা-আবর্জনা ফেলে পুরো সড়ক দখল করেছে। ড্রেনগুলো ঢালাই করে দোকানের ভেতরে ঢুকিয়ে ফেলা হয়েছে। ঢালাইয়ের কারণে ড্রেনের স্ল্যাব খোলার পদ্ধতিও বন্ধ হয়ে গেছে।

জনগণের ভোগান্তি লাঘবে সিডিএর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন বলেন, জনগণের দুর্ভোগ লাঘবে আমরা ফুটপাত উচ্ছেদ করে যাব, যাতে মানুষ নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারে এবং বৃষ্টি হলে পানি যেন দ্রুত ড্রেনে নামতে পারে।

এ সময় তিনি স্থানীয় ব্যবসায়ী, বাসিন্দা ও স্কুলশিক্ষার্থীদের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টি করেন। স্কুলশিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, এখন থেকে তোমাদেরকে এসব বিষয়ে সচেতন হতে হবে। রাস্তাঘাটে যেখানে-সেখানে ময়লা ফেলা যাবে না। বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়ার পথে কোনো দোকানিকে যদি সামনের ড্রেনে ময়লা ফেলতে দেখো তাকে ধরবে। বলবে, কেন ময়লা রাস্তা ও ড্রেনে ফেলেন। আপনারা নিজেদের বাসা ও দোকান যেমন পরিষ্কার রাখেন তেমনি দোকানের সামনের অংশও পরিষ্কার রাখতে হবে।

এ সময় তিনি সিডিএর প্রধান প্রকৌশলী আহমেদ আনোয়ারুল নজরুল ও সচিব মাহবুবউল করিমকে দ্রুত দখল করা ড্রেনের ঢালাই ভেঙে দিয়ে উদ্ধারের নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে অবৈধ স্থাপনা ভেঙে দিয়ে ড্রেনগুলোতে স্ল্যাব বসানোর ব্যবস্থা নেওয়ার তাগিদ দেন। সিডিএ চেয়ারম্যান সতর্ক করে বলেন, কেউ যদি ড্রেনে ময়লা ফেলে এবং দোকানের সামনের অংশ পরিষ্কার না রাখে, তবে তাকে জরিমানার আওতায় আনা হবে।

পরিদর্শনকালে সিডিএ চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন অক্সিজেন-কোয়াইশ সড়কের সংস্কারকাজে ব্যবহৃত ইট, বালু ও সিমেন্টের গুণগত মান নিজে যাচাই-বাছাই করেন এবং সংশ্লিষ্টদের টেকসই কাজ করার তাগাদা দেন।

পরবর্তীতে তিনি অনন্যা আবাসিক এলাকা ঘুরে দেখেন এবং সড়কটির কোয়াইশ প্রান্তে একটি পানির ফোয়ারা স্থাপনের উদ্যোগ নেন। ফোয়ারাটির নকশা আরও নান্দনিক ও সুন্দর করার জন্য তিনি সিডিএর প্রধান প্রকৌশলী আহমেদ আনোয়ারুল নজরুল ও সচিব মাহবুবউল করিমসহ সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের নির্দেশনা দেন।