
কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার উপকূলীয় অঞ্চলে চিংড়ির পাশাপাশি এখন সাদা জাতের মাছ চাষের বিপ্লব ঘটাতে নেমেছেন চাষিরা। সাদা মাছ চাষ সম্প্রসারণের লক্ষ্যে মঙ্গলবার (২৩ জুন) সকালে চকরিয়া উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আগ্রহী খামারিদের মাঝে সরকারি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় মাছের খাদ্যসহ বিভিন্ন উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীন দেলোয়ার।
মৎস্য অধিদপ্তরের আওতাধীন ‘ইউনিয়ন পর্যায়ে মৎস্য চাষ প্রযুক্তি সেবা সম্প্রসারণ প্রকল্প (৩য় পর্যায়)’-এর অর্থায়নে এবং মৎস্য খামার যান্ত্রিকীকরণ ও মাছের উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে এসব উপকরণ দেওয়া হয়। সরকারের গৃহীত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে প্রদর্শনী খামারের জন্য (গলদা-কার্প মিশ্র চাষ, নোনা টেংরা চাষ, শিং-দেশি মাগুর মিশ্র চাষ এবং মনোসেক্স তেলাপিয়া চাষ) মৎস্যচাষিদের মাঝে এরেটর ও মৎস্য খাদ্যসহ অন্যান্য উপকরণ বিতরণ করা হয়।
চকরিয়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. আনোয়ারুল আমিনের সভাপতিত্বে বিতরণ অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আরিফ উদ্দীন, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহানাজ ফেরদৌসী এবং উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা শাহাদাত হোসেন। এ ছাড়া অনুষ্ঠানে উপকারভোগী খামারি, মৎস্য অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং স্থানীয় সুধীজন উপস্থিত ছিলেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, চকরিয়া উপজেলার উপকূলীয় অঞ্চলের ২৫ হাজার একর জমিতে ১৯৮৫ সালে গড়ে তোলা চিংড়িজোন বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ মৎস্য ভান্ডার হিসেবে পরিচিত। শুরু থেকেই এই জোনে লবণাক্ত পানিতে চিংড়ি চাষ হয়ে আসছে।
তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভাইরাসসহ নানা ধরনের রোগবালাইয়ের কারণে চিংড়ি চাষে মড়ক দেখা দেওয়ায় উৎপাদনে ধস নামে। এ কারণে চাষিরা চিংড়ি চাষে আগ্রহ হারাচ্ছেন। বিপরীতে লবণাক্ত চিংড়ি ঘেরেই এখন সাদা বা মিঠাপানির প্রজাতির রুই, মৃগেল, কাতলা, চিতলসহ বহুবিধ মাছের চাষ করে সফলতা পাচ্ছেন তাঁরা। বন্যা বা অতিবৃষ্টিতে ভেসে যাওয়ার শঙ্কা ছাড়া সাদা মাছ চাষে রোগবালাইয়ের তেমন কোনো ঝুঁকি নেই বলে মৎস্যচাষিরা জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে চকরিয়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. আনোয়ারুল আমিন জানান, ইতিমধ্যে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় চাষিরা সাদা জাতের মাছ চাষে সফলতার মুখ দেখছেন। এ কারণে চাষিরা সাদা মাছ চাষে ব্যাপক আগ্রহী হয়ে পড়েছেন। পরিকল্পিত চাষের মাধ্যমে আগামী দুই-তিন বছরের মধ্যে চিংড়ি শিল্পের পাশাপাশি অর্থনীতিতে সাদা জাতের মাছ চাষ কাঙ্ক্ষিত ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।