সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

রাঙ্গুনিয়ায় বাড়তি বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে বিক্ষোভের ডাক

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি | প্রকাশিতঃ ২৪ জুন ২০২৬ | ৭:৩০ অপরাহ্ন


চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তবে অভিযোগ যাচাই করে দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন চট্টগ্রাম পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর রাঙ্গুনিয়া জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মো. ফায়সাল হোসেন।

বুধবার (২৪ জুন) উপজেলার আলমশাহ পাড়া এলাকা থেকে ‘এম এ জাব্বার কম্পিউটার’ নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে লাইভে এসে এই বিক্ষোভের ঘোষণা দেওয়া হয়।

লাইভে অংশ নেওয়া স্থানীয় বাসিন্দা ও ওই ফেসবুক আইডির স্বত্বাধিকারী মো. দিদারুল আলম হাতে একটি পত্রিকার কপি দেখিয়ে বলেন, সংবাদপত্রে পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম কমার খবর প্রকাশিত হলেও গ্রাহকদের হাতে আসা সাম্প্রতিক বিল আগের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ এসেছে। এর প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় আলমশাহ পাড়া মাদ্রাসার প্রধান ফটক থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হবে বলে তিনি জানান।

লাইভে মো. দিদারুল আলম আরও কয়েকজন ভুক্তভোগীর মতামত তুলে ধরেন। সেখানে স্থানীয় কুলিং কর্নার ব্যবসায়ী মনিরুল ইসলাম বাবু জানান, গত মাসে তাঁর বিদ্যুৎ বিল ছিল ১ হাজার ৬৩৭ টাকা, যা এ মাসে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৮২৬ টাকায়। বিদ্যুৎ ব্যবহারে বড় ধরনের পরিবর্তন না থাকলেও বিল কেন এত বেড়েছে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের কাছে ব্যাখ্যা চান ব্যবসায়ী মনিরুল ইসলাম বাবু।

একই লাইভে রিকশাচালক আবুল কালাম অভিযোগ করেন, আগে কখনো তাঁর বিদ্যুৎ বিল ২ হাজার ৭০০ থেকে ২ হাজার ৮০০ টাকার বেশি আসেনি। কিন্তু চলতি মাসে তাঁর বিল এসেছে ৪ হাজার ৭৯৭ টাকা। এতে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বিষয়টি দ্রুত সমাধানের দাবি জানান।

এ সময় স্থানীয় ব্যবসায়ী জসিমসহ আরও কয়েকজন গ্রাহক অতিরিক্ত বিলের কারণ জানতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জবাব দাবি করেন এবং বিদ্যুৎ বিল কমাতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। শুধু ওই লাইভ ভিডিওতেই নয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিদ্যুৎ বিল বৃদ্ধির অভিযোগ তুলে একাধিক ব্যবহারকারী পোস্ট ও মন্তব্য করছেন এবং বিষয়টি দ্রুত তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর রাঙ্গুনিয়া জোনাল অফিসের ডিজিএম মো. ফায়সাল হোসেন জানান, কোরবানির ঈদে বাড়তি বিদ্যুৎ ব্যবহার এবং বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) ঘোষিত নতুন খুচরা মূল্যহার বৃদ্ধির প্রভাবে অনেক গ্রাহকের বিল বেড়েছে।

ডিজিএম মো. ফায়সাল হোসেন আরও জানান, চলতি মাসে গ্রাহকদের হাতে পৌঁছানো বিল মূলত গত মাসের বিদ্যুৎ ব্যবহারের হিসাব অনুযায়ী প্রস্তুত করা হয়েছে। ঈদ উপলক্ষে ফ্রিজ, ডিপ ফ্রিজসহ বিভিন্ন বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতির দীর্ঘ সময় ব্যবহারের কারণে ইউনিট খরচ বেড়েছে, যার প্রভাব জুন মাসের বিলে প্রতিফলিত হয়েছে।

গ্রাহকদের আশ্বস্ত করে ডিজিএম মো. ফায়সাল হোসেন জানান, কোনো গ্রাহক যদি মিটারের প্রদর্শিত রিডিং ও বিলে উল্লেখিত রিডিংয়ের মধ্যে অসংগতি পান, তাহলে সংশ্লিষ্ট পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে যোগাযোগ করলে কোনো হয়রানি ছাড়াই তাৎক্ষণিকভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইতিমধ্যে অনেক গ্রাহক অভিযোগ নিয়ে অফিসে এসেছেন এবং বিষয়গুলো যাচাই করে সমাধান দেওয়া হচ্ছে। অনেকেই নিজেদের ভুল বুঝতে পেরেছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিক্ষোভের ঘোষণার বিষয়ে ডিজিএম মো. ফায়সাল হোসেন বলেন, বিক্ষোভ করার প্রয়োজন নেই। যাদের বিল নিয়ে সমস্যা রয়েছে, তারা সরাসরি সংশ্লিষ্ট অফিসে এসে বিষয়টি জানালে দ্রুত যাচাই করে সমাধানের চেষ্টা করা হবে। এ বিষয়ে পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে গ্রাহকদের ধৈর্য ধরে অভিযোগ জানিয়ে সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হয়েছে।