সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

ফজলে করিম অ্যাম্বুলেন্সে, কাঠগড়ায় অনুপস্থিতিতেই শুনানি

একুশে প্রতিবেদক | প্রকাশিতঃ ২৪ জুন ২০২৬ | ৭:৫৬ অপরাহ্ন


আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জুলাই গণঅভ্যুত্থান-সংক্রান্ত মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য ফজলে করিম চৌধুরীকে অ্যাম্বুলেন্সে করে আনা হলেও তাঁকে কাঠগড়ায় হাজির করা হয়নি। অসুস্থতার কারণে তিনি পুরো সময় অ্যাম্বুলেন্সেই ছিলেন বলে জানানো হয়।

বুধবার ট্রাইব্যুনাল-২ এ মামলার ডিসচার্জ (অব্যাহতি) আবেদনের শুনানির দিন ধার্য ছিল। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী কারাগার থেকে চারজন গ্রেপ্তার আসামিকে প্রিজনভ্যানে আনা হলেও ফজলে করিম চৌধুরীকে অ্যাম্বুলেন্সে করে আনা হয়।

কারা পুলিশ ও নিরাপত্তা সদস্যদের উপস্থিতিতে তাঁকে ট্রাইব্যুনাল চত্বরে রাখা হলেও অ্যাম্বুলেন্স থেকে নামানো হয়নি। বিষয়টি আদালতকক্ষে আলোচনার জন্ম দেয়।

প্রসিকিউশন পক্ষ আদালতে জানায়, আসামির গুরুতর অসুস্থতার দাবি করা হলেও স্বাস্থ্য প্রতিবেদনে তাঁর অবস্থা সংকটজনক নয় বলে উল্লেখ রয়েছে। তাদের মতে, বিচার প্রক্রিয়া বিলম্বিত করতেই এ ধরনের অবস্থান নেওয়া হচ্ছে।

তবে আসামিপক্ষ জানায়, এপ্রিলের মাঝামাঝিতে কারাগারে নেওয়ার পথে একটি দুর্ঘটনায় ফজলে করিম চৌধুরীর ঘাড়ে গুরুতর আঘাত লাগে। এরপর তিনি হাসপাতালে চিকিৎসা নেন এবং বর্তমানে কারা কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে আছেন।

জানা যায়, অ্যাম্বুলেন্সে শুয়ে ছিলেন ফজলে করিম চৌধুরী। তাঁর গলায় সারভাইক্যাল কলার পরানো ছিল এবং পাশে দুইজন কারা পুলিশ সদস্য অবস্থান করছিলেন।

শুনানিতে পলাতক ১৭ আসামির পক্ষে রাষ্ট্রীয় খরচে নিয়োগপ্রাপ্ত আইনজীবীরা ডিসচার্জ আবেদনের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন। তারা দাবি করেন, অভিযোগের সঙ্গে তাদের মক্কেলদের সম্পৃক্ততা নেই এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে মামলা আনা হয়েছে।

পরে ফজলে করিম চৌধুরীর পক্ষে তাঁর আইনজীবী আবদুল কাইয়ুম শুনানি করেন। আদালত তাঁর মক্কেলের শারীরিক অবস্থার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

প্রসিকিউশন জানায়, আসামিকে অ্যাম্বুলেন্সে করে ট্রাইব্যুনালে আনা হয়েছে, তবে তাঁকে কাঠগড়ায় তোলা হয়নি। এ সময় ট্রাইব্যুনাল পুলিশকে নির্দেশ দেন আসামিকে হাজির করার বিষয়ে। তবে প্রসিকিউশন জানায়, ডিসচার্জ আবেদনের শুনানিতে গ্রেপ্তার আসামির অনুপস্থিতিতেও আইনজীবীর মাধ্যমে শুনানি চলতে পারে।

ট্রাইব্যুনাল এ যুক্তির সঙ্গে একমত হয়ে শুনানি অব্যাহত রাখে। পরে ফজলে করিম চৌধুরীর আইনজীবী তাঁর পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন। শুনানি অসমাপ্ত রেখে ট্রাইব্যুনাল ২৮ জুন পর্যন্ত মুলতবি করা হয়।

এ মামলায় চট্টগ্রামে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় ছয়জন হত্যার অভিযোগে সাবেক মন্ত্রীসহ মোট ২২ জনকে আসামি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে পাঁচজন গ্রেপ্তার রয়েছেন, অন্যরা পলাতক।

প্রসিকিউশন জানিয়েছে, ৭ এপ্রিল ট্রাইব্যুনাল আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেয়। ৫ এপ্রিল অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। মামলায় তিনটি পৃথক অভিযোগে হত্যাকাণ্ড ও শতাধিক আহতের ঘটনা উল্লেখ রয়েছে।