সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

অধিগ্রহণের বাইরের জমি দখলের অভিযোগ ম্যাক্স গ্রুপের বিরুদ্ধে, চকরিয়ায় মানববন্ধন

চকরিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি | প্রকাশিতঃ ২৪ জুন ২০২৬ | ৯:৪৬ অপরাহ্ন


মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর সড়ক সম্প্রসারণ ও নতুন রাস্তা নির্মাণ প্রকল্পের বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান ‘ম্যাক্স গ্রুপ’-এর বিরুদ্ধে আদালতের ডিক্রিকৃত জমি জবরদখল, অবৈধ উচ্ছেদ এবং পরিবেশ ধ্বংসের অভিযোগ উঠেছে।

অধিগ্রহণের বাইরে থাকা ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি জোরপূর্বক দখল করে মাটি কাটার যন্ত্র (এক্সকাভেটর) দিয়ে বিশাল পুকুর খনন এবং বাধা দেওয়ায় মালিকপক্ষকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার ঘটনায় চকরিয়া থানায় লিখিত অভিযোগও দায়ের করা হয়েছে।

এ ঘটনার প্রতিবাদে এবং স্থানীয় প্রশাসন ও সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করে বুধবার (২৪ জুন) বিকেলে চকরিয়া উপজেলার চিরিঙ্গা ইউনিয়নের হেতালিয়া ঘোনা এলাকায় মানববন্ধন করেছেন ভুক্তভোগী ও এলাকাবাসী।

মানববন্ধনে অভিযোগ করা হয়, চকরিয়া উপজেলার বদরখালী থেকে ফাঁসিয়াখালী পর্যন্ত কয়লা বিদ্যুৎ সড়ক নির্মাণ কার্যক্রম চলমান থাকা অবস্থায় অধিগ্রহণের বাইরে থাকা জমি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ম্যাক্স গ্রুপ বেআইনিভাবে দখলের চেষ্টা করছে। এমনকি তারা আদালতের ডিক্রিমূলে মালিকগণকে উপেক্ষা করে ভুল বিএসধারী ব্যক্তিদের নামে টাকা বরাদ্দ দিয়ে জোরপূর্বক আসল মালিকদের উচ্ছেদ করছে। এ বিষয়ে ম্যাক্স গ্রুপের স্থানীয় প্রতিনিধিদের সাথে কথা বলতে গেলে তাঁরা কোনো সন্তোষজনক জবাব না দিয়ে উল্টো জমির মালিকদের হুমকি-ধমকি প্রদান করে উচ্ছেদ অভিযান অব্যাহত রেখেছেন বলে মানববন্ধনে জানানো হয়।

এদিকে হুমকি দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার (২৩ জুন) চকরিয়া থানায় একটি লিখিত এজাহার দায়ের করেছেন জমির মালিক মুহাম্মদ মুজিবুল হক (৫২) নামের এক ভুক্তভোগী। এজাহারে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ম্যাক্স গ্রুপের চকরিয়া পৌরসভার হালকাকারাস্থ কার্যালয়ের কর্মকর্তা আল আমিন (৫০) সহ ১৫-২০ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে বিবাদী করা হয়েছে।

এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ২৩ জুন সকাল ১০টার দিকে বিবাদীরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে অধিগ্রহণের বাইরে থাকা ওই জমিতে প্রবেশ করেন এবং এক্সকাভেটর দিয়ে মাটি কেটে বিশাল পুকুর সৃষ্টির কাজ শুরু করেন। এ সময় জমির মালিকপক্ষ বাধা দিলে বিবাদীরা ক্ষিপ্ত হয়ে উল্টো তাঁদের ওপর মারমুখী আক্রমণ চালান এবং জমি না ছাড়লে প্রাণনাশের হুমকি দেন। বর্তমানেও সেখানে জোরপূর্বক দখল ও মাটি কাটার কাজ অব্যাহত রাখা হয়েছে, যার ফলে পুনরায় বাধা দিতে গেলে মারাত্মক দাঙ্গা-হাঙ্গামা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে ম্যাক্স গ্রুপের চকরিয়া উপজেলা কার্যালয়ের কর্মকর্তা আল আমিন জানান, কাউকে হুমকি-ধমকি দেওয়া হয়নি। এটি ভিত্তিহীন অভিযোগ। তবে এখনো যাঁরা জমির ক্ষতিপূরণের টাকা পাননি, তাঁদের একটি তালিকা করা হয়েছে এবং তাঁদের সাথে ইতোমধ্যে সভাও হয়েছে। আল আমিন আরও জানান, সবাইকে তাঁদের ক্ষতিপূরণের টাকা বুঝিয়ে দেওয়া হবে।