সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

রাউজানে সেপটিক ট্যাংকে বিষাক্ত গ্যাসে দুজনের মৃত্যু

রাউজান (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি | প্রকাশিতঃ ২৬ জুন ২০২৬ | ৭:২৭ অপরাহ্ন


চট্টগ্রামের রাউজানে নির্মাণাধীন সেপটিক ট্যাংকে নেমে গ্যাসের বিষক্রিয়ায় দুজনের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (২৬ জুন) দুপুরের দিকে উপজেলার নোয়াপাড়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ঝিকুটি পাড়া এলাকায় লক্ষণ ডাক্তারের বাড়ির মৃত কার্তিক দাশের ঘরে এই ঘটনা ঘটে। নোয়াপাড়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই আনিসুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

নিহত ব্যক্তিরা হলেন উপজেলার নোয়াপাড়া ইউনিয়নের কচুখাইন গ্রামের নিমাই দাশের ছেলে প্রদীপ দাশ এবং বোয়ালখালী উপজেলার কধুরখীলের বিষু দাশের ছেলে সমীরণ দাশ।

মৃত কার্তিক দাশের পরিবারের সদস্য মিনতী দাশ জানান, তাঁদের রান্নাঘর ও বাথরুম নির্মাণের কাজ ৪-৫ মাস ধরে চলছে। বৃষ্টির কারণে অনেক দিন কাজ বন্ধ ছিল, যার কারণে সেপটিক ট্যাংকের ঢাকনাও বন্ধ রাখা হয়। শুক্রবার দুপুরে কাজের কন্ট্রাক্টর সেপটিক ট্যাংকে নামলে অসুস্থ হয়ে পড়েন। এ সময় তাঁকে উদ্ধার করতে ট্যাংকে নামেন মিনতী দাশের মেয়ের স্বামী প্রদীপ দাশ। কন্ট্রাক্টর মুমূর্ষু অবস্থায় উঠে আসতে পারলেও প্রদীপ দাশ সেখানে অসুস্থ হয়ে পড়েন। এর মধ্যে এলাকায় গুজব ছড়িয়ে পড়ে যে, খারাপ দেবতা বা ভূতে একের পর এক মানুষ টানছে। এর ফলে এলাকার কেউ তাঁদের উদ্ধারে এগিয়ে আসেননি।

মিনতী দাশ আরও জানান, পরে তাঁরা বোয়ালখালী উপজেলা থেকে তাঁদের ভাগনে সমীরণ দাশকে ডেকে আনেন। সমীরণ দাশ ঘটনাস্থলে এসে ট্যাংকে নামলে তিনিও সেখানে অসুস্থ হয়ে পড়েন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা এসে তাঁদের উদ্ধার করে নোয়াপাড়ার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রদীপ দাশ ও সমীরণ দাশকে মৃত ঘোষণা করেন।

নোয়াপাড়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই আনিসুর রহমান বলেন, সেপটিক ট্যাংকে নেমে গ্যাসের বিষক্রিয়ায় প্রদীপ দাশ ও সমীরণ দাশের মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে এসআই আনিসুর রহমান জানান।