
কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার উপকূলীয় ইউনিয়ন উজানটিয়ার বিচ্ছিন্ন দ্বীপে চিংড়ি ঘের জবরদখল করতে গিয়ে অস্ত্রের মহড়া দিয়ে ভীতি সৃষ্টির চেষ্টা করেছে একদল অস্ত্রধারী। এ সময় আশপাশের ঘেরমালিক, চাষি এবং স্থানীয় এলাকাবাসী জড়ো হয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে অস্ত্রধারীদের ধাওয়া দেন। একপর্যায়ে দেশীয় তৈরি বন্দুকসহ দুজনকে হাতেনাতে আটক করে জনতা। পরে তাঁদের গণপিটুনি দিয়ে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।
শুক্রবার (২৬ জুন) ভোররাত ৪টার দিকে উপজেলার উপকূলীয় উজানটিয়া ইউনিয়নের বিচ্ছিন্ন দ্বীপ করিয়ারদিয়া এলাকার একটি চিংড়ি ঘেরে আধিপত্য বিস্তারের এ ঘটনা ঘটে। এর পাঁচ ঘণ্টা পর পেকুয়া থানা-পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে আটক দুজনকে হেফাজতে নেয়।
আটক দুজন হলেন মহেশখালী উপজেলার কালারমারছড়া ইউনিয়নের উত্তর নলবিল এলাকার মৃত উলা মিয়ার ছেলে নেজাম উদ্দিন (৩৮) ও চকরিয়া মাতামুহুরী উপজেলার বদরখালী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের মাঝেরপাড়া এলাকার আব্দুল জব্বারের ছেলে শহিদুল ইসলাম (৩২)।
পুলিশ জানিয়েছে, নেজাম উদ্দিন ও শহিদুল ইসলামের কাছ থেকে দেশে তৈরি দুটি বন্দুক, দুটি গুলি, ১২টি খালি কার্তুজ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া পরিবহনকাজে ব্যবহৃত একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকা জব্দ করা হয়েছে।
স্থানীয় চিংড়ি ঘেরমালিক ও চাষিরা জানিয়েছেন, শুক্রবার ভোর ৪টার দিকে ১০ থেকে ১২ জনের অস্ত্রধারী একটি দল সমুদ্র চ্যানেল পাড়ি দিয়ে মহেশখালী থেকে উজানটিয়া ইউনিয়নের করিয়ারদিয়া এলাকায় পৌঁছে একটি চিংড়ি ঘের দখল করতে আসে। এ সময় বিষয়টি আশপাশের ঘেরমালিক ও চাষিরা বুঝতে পেরে এলাকাবাসীর সহায়তায় সেখানে জড়ো হয়ে অস্ত্রধারীদের ধাওয়া দেন। একপর্যায়ে পালিয়ে যাওয়ার পথে অস্ত্র ও গুলিসহ নেজাম উদ্দিন এবং শহিদুল ইসলামকে আটক করে স্থানীয় এলাকাবাসী।
প্রত্যক্ষদর্শী লোকজন জানান, আটকের পর স্থানীয় জনতা নেজাম উদ্দিন ও শহিদুল ইসলামকে বেদম পিটিয়ে জখম করেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ওই দুজনকে উদ্ধার করে পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করে।
পেকুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মেহেদী হাসান বলেন, চিংড়ি ঘের জবরদখল করতে এলে এলাকাবাসী দুজনকে অস্ত্রসহ ধরে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছেন। পেকুয়া থানায় তাঁদের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা করা হয়েছে। শনিবার সকালে নেজাম উদ্দিন ও শহিদুল ইসলামকে চকরিয়া উপজেলা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হবে।