কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার মগনামা ইউনিয়নে প্রবাসী ছেলের স্ত্রীকে উত্ত্যক্ত করার ঘটনার প্রতিবাদ করায় আবু তাহের (৬৫) নামের এক বৃদ্ধকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।
শুক্রবার (২৬ জুন) রাত সাড়ে ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় আবু তাহেরকে পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে রাত সাড়ে ১০টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সেখানে তাঁর মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে পেকুয়া থানা-পুলিশ হাসপাতাল থেকে আবু তাহেরের মরদেহ উদ্ধার করে।
নিহত আবু তাহের পেকুয়া উপজেলার মগনামা ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড হারুন মাতবর পাড়ার মৃত আবদুস সাত্তারের ছেলে।
স্থানীয় এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সময় একই ইউনিয়নের পুরাতন বহদ্দার পাড়ার নুরুল হোছাইনের ছেলে শিফাত এবং শাহ আলমের ছেলে বাহাদুর নিহত আবু তাহেরের বাড়িতে ঢিল নিক্ষেপ করে। বিষয়টি জানতে পেরে আবু তাহের বাড়ি থেকে বের হয়ে কারণ জানতে চাইলে শিফাত ও বাহাদুরের সঙ্গে তাঁর বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে শিফাত ও বাহাদুর ধারালো কিরিচ দিয়ে আবু তাহেরকে কুপিয়ে এবং মারধর করে গুরুতর আহত করে। পরে তাঁকে পাশের একটি পুকুরে ফেলে রেখে শিফাত ও বাহাদুর পালিয়ে যায়।
নিহত আবু তাহেরের পুত্রবধূ ছকিনা বেগম বলেন, তাঁর জা তৈয়বা বেগমের ঘরের চালে শিফাত ঢিল ছোড়ে। তৈয়বা বেগম চিৎকার করলে শ্বশুর আবু তাহের ঘর থেকে বের হয়ে কারণ জানতে চান। তখন শিফাত ও বাহাদুর তাঁকে কিরিচ দিয়ে কুপিয়ে এবং পিটিয়ে আহত করে পুকুরে ফেলে দেয়। পরে তাঁরা আবু তাহেরকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।
ছকিনা বেগম আরও বলেন, তাঁর জা তৈয়বা বেগমের স্বামী কাইছার মালয়েশিয়ায় থাকেন। স্বামী কাইছার বিদেশে থাকার সুযোগে শিফাত প্রায়ই তৈয়বা বেগমকে নানাভাবে উত্ত্যক্ত করত এবং রাতের বেলায় বাড়িতে এসে ঢিল ছুড়ে বিরক্ত করত।
নিহত আবু তাহেরের বড় ছেলে নবাব মিয়া শুক্রবার রাতে পেকুয়া হাসপাতালের সামনে সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করে বলেন, শিফাত একজন বখাটে ছেলে। তাঁর ছোট ভাই কাইছারের স্ত্রী তৈয়বা বেগমকে দীর্ঘদিন ধরে নানা কৌশলে শিফাত উত্ত্যক্ত করে আসছে। এ বিষয়টি নিয়ে আগে সামাজিকভাবে বিচার-সালিশও হয়েছে এবং একবার শিফাতের কাছ থেকে মুচলেকাও নেওয়া হয়। এরপরও শিফাত উত্ত্যক্ত করা বন্ধ করেনি।
নবাব মিয়া আরও জানান, একই কায়দায় বখাটে শিফাত ও বাহাদুর মিলে শুক্রবার রাতে তাঁদের বাড়িতে ঢিল ছোড়ে। এ সময় বাড়ি থেকে বের হয়ে ঢিল ছুড়ে মারার প্রতিবাদ করায় তাঁর বাবা আবু তাহেরকে পরিকল্পিতভাবে বখাটে শিফাত ও বাহাদুর মিলে হত্যা করেছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে পেকুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মেহেদী হাসান বলেন, হাসপাতাল থেকে নিহত আবু তাহেরের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি শেষে শনিবার সকালে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হবে। ওসি মো. মেহেদী হাসান আরও বলেন, রাতেই ঘটনাস্থল ও আশপাশ এলাকায় জড়িত শিফাত ও বাহাদুরকে ধরতে পুলিশের অভিযান শুরু করা হয়েছে।