
মানুষের খেতে নারী শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন নুর নাহার। দুপুর গড়িয়ে যাওয়ায় খাওয়ার জন্য বাড়ির পথে রওনা দিয়েছিলেন। কিন্তু ট্রেনের ধাক্কায় আর খাওয়া হলো না তাঁর। শনিবার (২৭ জুন) দুপুর ১টার দিকে চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার শ্রীমাই এলাকায় ট্রেনের ধাক্কায় মর্মান্তিক মৃত্যু হয় নুর নাহারের।
নিহত নুর নাহার পটিয়া পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাহুলী এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন। তিনি কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার হোয়ানক ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের রাজুয়ারঘোনা গ্রামের বাসিন্দা মো. মালেকের স্ত্রী। এ ঘটনায় রাশেদা বেগম নামের অপর এক নারী শ্রমিক গুরুতর আহত হয়েছেন। রাশেদা বেগম একই গ্রামের সমিউদ্দীনের স্ত্রী।
স্থানীয়, পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, নুর নাহার ও রাশেদা বেগম শ্রীমাই এলাকার একটি খেতে দিনমজুর হিসেবে কাজ করছিলেন। দুপুরে খাবার খেতে যাওয়ার জন্য রেললাইন পার হওয়ার সময় কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রামগামী প্রবাল এক্সপ্রেস ট্রেনের ধাক্কায় দুজনই আহত হন। এতে নুর নাহারের শরীর মারাত্মকভাবে ক্ষতবিক্ষত হলে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত রাশেদা বেগমকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে প্রথমে পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠান।
স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ রুকন বলেন, দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে যান। নুর নাহার ঘটনাস্থলেই মারা যান। আহত রাশেদা বেগমকে প্রথমে পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে তাঁর অবস্থার অবনতি হলে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মুনতাহিনা বলেন, রাশেদা বেগমকে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। তাঁর মাথার বাম পাশে গভীর আঘাত লেগেছে এবং রক্ত জমাট বেঁধেছে। শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য রাশেদা বেগমকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
পটিয়া রেলওয়ে স্টেশনের সহকারী স্টেশনমাস্টার প্রেমা বড়ুয়া জানান, কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রামগামী প্রবাল এক্সপ্রেস শ্রীমাই ব্রিজ এলাকা অতিক্রম করার সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে রেলওয়ে পুলিশ ও পটিয়া থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নুর নাহারের মরদেহ উদ্ধার করে। সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পাশাপাশি প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।