সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

সাংবাদিককন্যা রাইফার মৃত্যুর আট বছর: হাইকোর্টের স্থগিতাদেশে থমকে আছে বিচার

একুশে প্রতিবেদক | প্রকাশিতঃ ২৯ জুন ২০২৬ | ৬:১৪ অপরাহ্ন


চট্টগ্রামের বেসরকারি ম্যাক্স হাসপাতালে চিকিৎসকের অবহেলায় সাংবাদিক রুবেল খানের আড়াই বছর বয়সী শিশুকন্যা রাফিদা খান রাইফার মৃত্যুর আট বছর পূর্ণ হয়েছে সোমবার (২৯ জুন)।

তবে অভিযুক্ত চিকিৎসকদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্টের স্থগিতাদেশ থাকায় থমকে আছে আলোচিত এই মামলার বিচার কার্যক্রম।

২০১৮ সালের ২৯ জুন রাতে ম্যাক্স হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাইফার মৃত্যু হয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও কর্তব্যরত চিকিৎসকদের অবহেলা এবং অদক্ষতায় এ মৃত্যু হয়েছে দাবি করে ওই বছরের ২০ জুলাই চকবাজার থানায় চার চিকিৎসকের বিরুদ্ধে মামলা করেন রাইফার বাবা।

মামলার আসামি চার চিকিৎসক হলেন— ডা. লিয়াকত আলী খান, ডা. বিধান রায় চৌধুরী, ডা. দেবাশীষ সেনগুপ্ত ও ডা. শুভ্র দেব।

পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) চট্টগ্রাম মেট্রো ইউনিটের পরিদর্শক আবু জাফর মোহাম্মদ ওমর ফারুক ২০২৪ সালের ১২ মার্চ আদালতে এই মামলার অভিযোগপত্র জমা দেন। ওই বছরের ১২ মে চট্টগ্রামের চতুর্থ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত তা আমলে নেন।

এরপর ২০২৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রামের অতিরিক্ত প্রথম মহানগর দায়রা জজ মো. কামাল হোসেন শিকদারের আদালত দণ্ডবিধির ৩০৪ (এ) ও ১০৯ ধারায় চার আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন।

মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ ইকবাল হোসাইন জানান, অভিযোগ গঠনের আদেশের বিরুদ্ধে আসামিপক্ষ হাইকোর্টে একটি ফৌজদারি রিভিশন মামলা (নম্বর ১৬১২/২০২৪) দায়ের করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট মামলার কার্যক্রমের ওপর এক বছরের জন্য স্থগিতাদেশ দিয়েছেন।

দীর্ঘ এই সময়েও বিচার না পাওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছেন রাইফার পরিবার। রাইফার বাবা রুবেল খান বলেন, “দীর্ঘ সময় ধরে বুকভরা শোক নিয়ে ন্যায়বিচারের আশায় আদালতের দ্বারস্থ আছি। আশা করি, সুষ্ঠু ও ন্যায়সঙ্গত বিচার পাব।”

রাইফার মা রুমানা খানম বলেন, “আজ আমার মেয়ের বয়স ১১ বছরে পড়ত। মাত্র আড়াই বছর বয়সে চিকিৎসকদের অবহেলায় তাকে হারিয়েছি। আট বছর ধরে আমরা বিচারের অপেক্ষায় দিন গুনছি। আদালতের প্রতি আমাদের আস্থা রয়েছে।”