
চাকরির বাজারের চাহিদানুযায়ী কারিকুলাম এবং শিক্ষার আন্তর্জাতিক পরিবেশ বজায় রাখায় এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনের (এইউডব্লিউ) প্রশংসা করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
শনিবার চট্টগ্রামে বিশ্ববিদ্যালয়টির নাসিরাবাদস্থ স্থায়ী ক্যাম্পাসে নির্মাণাধীন নতুন ভবন পরিদর্শন শেষে চট্টেশ্বরী ক্যাম্পাসে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এই প্রশংসা করেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, শিক্ষাদানের পাশাপাশি এই বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক পর্যায়ের পরিচিতি সত্যিই প্রশংসনীয়। এ সময় তিনি বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপটে শিক্ষা কারিকুলামে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও ডিজিটাল লিটারেচার অন্তর্ভুক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। সরকার শিক্ষাসহ সব ক্ষেত্রে ডিজিটাল কার্যক্রম চালু করেছে উল্লেখ করে তিনি জানান, এর ফলে দুর্নীতি দূর হওয়ার পাশাপাশি সুশাসন নিশ্চিত হচ্ছে এবং মানুষ মানসম্পন্ন সেবা পাচ্ছে।
অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে আন্ডারগ্র্যাজুয়েট ও গ্র্যাজুয়েট শ্রেণির কারিকুলাম, আন্তর্জাতিক বাজারে এর উপযোগিতা এবং হার্ভার্ড, জনস হপকিন্স ও ইলিনয়ের মতো বিশ্ববিখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রাক্তন ছাত্রীদের ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জনসহ বিভিন্ন সাফল্যের চিত্র তুলে ধরা হয়।
বর্তমানে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলাদেশ, আফগানিস্তান, ভুটান, ভারত, জাপান, মিয়ানমার, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কাসহ ২২টি দেশের প্রায় দুই হাজার ১০০ ছাত্রী পড়াশোনা করছেন বলে অনুষ্ঠানে জানানো হয়।
এ ছাড়া ২০০৪ সালে তৎকালীন বেগম খালেদা জিয়ার সরকার কর্তৃক এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় সার্বিক সহযোগিতার জন্য বেগম খালেদা জিয়া ও তাঁর সরকারের প্রতি অনুষ্ঠানে কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করা হয়।
চট্টগ্রামকে ভিন্ন মাত্রা ও বৈশিষ্ট্যের নগরী হিসেবে বর্ণনা করে এখানে বিশ্ববিদ্যালয়টি স্থাপন করায় কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানান আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নে নিজের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি।
অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যালামনাই তাসলিমা রেজা এবং প্রকৌশলী তানভির রহমান বক্তব্য দেন। এ সময় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন এবং চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে সকালে অর্থমন্ত্রী চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নতুন চালু হওয়া ডেঙ্গু ওয়ার্ড উদ্বোধন ও পরিদর্শন করেন। চমেক হাসপাতালের ১৬ নম্বর ওয়ার্ডটি শুধুমাত্র ডেঙ্গু রোগীদের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। এর ফলে সরকারি পর্যায়ে ডেঙ্গু চিকিৎসাসেবা আরও একধাপ এগিয়ে যাবে এবং রোগীরা দ্রুত চিকিৎসাসেবা পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।