সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

পাহাড়ধসের ঝুঁকিতে চট্টগ্রাম: বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার নির্দেশ

একুশে প্রতিবেদক | প্রকাশিতঃ ৬ জুলাই ২০২৬ | ৭:১৪ অপরাহ্ন


টানা বৃষ্টিতে চট্টগ্রামে পাহাড়ধসের শঙ্কা দেখা দিয়েছে। প্রাণহানি ও সম্ভাব্য দুর্ঘটনা এড়াতে পাহাড় ও সমুদ্রতীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে নির্দেশ দিয়েছে জেলা প্রশাসন।

পাশাপাশি পাহাড়সংলগ্ন স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও মসজিদগুলোকে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

সোমবার সকাল থেকে জেলা প্রশাসনের নেতৃত্বে বিভিন্ন এলাকায় মাইকিং করে লোকজনকে নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়। এর আগে রোববার রাতেও নগরের পাহাড়ি এলাকাগুলোতে সতর্কতামূলক প্রচারণা চালানো হয়েছে।

রোববার রাতে কক্সবাজারের উখিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্প ও কক্সবাজার শহরে পৃথক পাহাড়ধসের ঘটনায় নারী ও শিশুসহ অন্তত নয়জনের মৃত্যু হয়। এরপর চট্টগ্রামেও সতর্কতা জোরদার করা হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত জারির পর পাহাড়ধসের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসন। মানুষের জানমালের নিরাপত্তায় প্রশাসনের একাধিক দল মাঠে কাজ করছে।

চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিয়া জানান, শনিবার রাত থেকে বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। পাহাড়ধসের আশঙ্কা থেকে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার কাজ চলছে। জেলা প্রশাসনের ছয়জন সহকারী কমিশনার (ভূমি) নিজ নিজ এলাকায় এটি তদারকি করছেন।

তিনি আরও জানান, নগরের আকবরশাহ এলাকার ঝিল-১, ঝিল-২ ও ঝিল-৩, বিজয়নগর পাহাড়, শান্তিনগর পাহাড় এবং বেলতলীঘোনা পাহাড়ে বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

চান্দগাঁও সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্লাবন কুমার বিশ্বাস জানান, টাংকির পাহাড়, আমিন জুট মিল এলাকা, পাহাড়িকা, সমবায় আবাসিক, সমসাময়িক গৃহ নির্মাণ এলাকা, মিয়ার পাহাড় এবং মুরাদপুর রেলস্টেশন সংলগ্ন রেলওয়ের পাহাড়ে বসবাসকারীদের সতর্ক করা হচ্ছে। এসব এলাকার কাছাকাছি কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

আগ্রাবাদ সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) তানভীর হাসান তুরান জানান, লালখান বাজারের পোড়া কলোনি, ঢেবারপাড়, আমবাগান সংলগ্ন পাহাড়ি এলাকা এবং উত্তর হালিশহর সমুদ্রতীরবর্তী এলাকায় মাইকিং করে বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে।

বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে পাহাড়ধসের ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা। তাই পাহাড়ের ঢালে ও ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে বসবাসকারীদের সেখানে অবস্থান না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সার্বক্ষণিক নজরদারি রাখছে জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো।