
বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপ ও সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে টানা ভারী বর্ষণে চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় পাহাড়ি ঢল ও আকস্মিক বন্যার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
শঙ্খ নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় উপজেলার তীরবর্তী ও উপকূলীয় নিম্নাঞ্চলগুলো প্লাবিত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখাসহ ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
আনোয়ারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মহিন উদ্দীন জানান, টানা অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের শঙ্কায় উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নের সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজখবর রাখা হচ্ছে।
উপকূলীয় ও নদী তীরবর্তী ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় শুকনো খাবার, ওষুধ ও পর্যাপ্ত ত্রাণসামগ্রী মজুত রয়েছে। পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে জনপ্রতিনিধি ও স্বেচ্ছাসেবকদের তৎপর থাকতে বলা হয়েছে।
এদিকে, টানা বর্ষণে আনোয়ারার বিভিন্ন ইউনিয়নের গ্রামীণ সড়ক ও নিচু এলাকায় ইতোমধ্যে পানি জমতে শুরু করেছে।
বিশেষ করে জুঁইদণ্ডী, রায়পুর, বারখাইন ও হাইলধর ইউনিয়নের শঙ্খ নদী তীরবর্তী চরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চল যেকোনো সময় প্লাবিত হতে পারে। এতে গ্রীষ্মকালীন সবজি ও রোপা আমনের বীজতলার ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন কৃষকরা।
অন্যদিকে, সাগরে জোয়ারের পানি স্বাভাবিকের চেয়ে বৃদ্ধি পাওয়ায় উপকূলীয় রায়পুর ও জুঁইদণ্ডী ইউনিয়নে ভাঙন আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। পানির চাপ বাড়লে দুর্বল ও সংস্কারবিহীন বেড়িবাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি ঢুকে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা স্থানীয়দের।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামী ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টায় বৃষ্টির তীব্রতা আরও বাড়তে পারে। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্যানুযায়ী, বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে পাহাড়ি ঢল নেমে আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোকেও প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।