
টানা তিন দিনের ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে কক্সবাজারের চকরিয়া এবং মাতামুহুরী এলাকার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।
মাতামুহুরী নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় বন্যা ও পাহাড়ধসের তীব্র শঙ্কা দেখা দিয়েছে। এতে পানিবন্দি হয়ে দুর্ভোগে পড়েছেন অন্তত এক লাখ মানুষ।
কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নুরুল ইসলাম জানান, টানা বৃষ্টিতে মাতামুহুরী নদীর পানি মঙ্গলবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত বিপৎসীমার (১১.৮০ মিটার) চেয়ে ১৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে অর্থাৎ ১১.৯৪ মিটার উচ্চতায় প্রবাহিত হচ্ছিল।
এ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে নিম্নাঞ্চলে বন্যার ঝুঁকি আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পাহাড়ি ঢলে চকরিয়া উপজেলার বমুবিলছড়ি, সুরাজপুর, মানিকপুর, কাকারা, লক্ষ্যারচর, ফাঁসিয়াখালী, কৈয়ারবিল, বরইতলী ও হারবাং এবং মাতামুহুরি এলাকার পূর্ব বড় ভেওলা ও সাহারবিল ইউনিয়নসহ বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।
এসব এলাকার বসতবাড়িতে পানি ঢোকার পাশাপাশি অনেক গ্রামীণ সড়ক তলিয়ে গেছে।
পাহাড়ধসের ঝুঁকি এড়াতে চকরিয়া উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পাহাড়ের খাদে ও ঢালুতে বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে মাইকিং করা হচ্ছে।
চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীন দেলোয়ার জানান, পাহাড়ের বাসিন্দাদের সতর্ক করার পাশাপাশি পানি দ্রুত নিষ্কাশনের জন্য উপকূলীয় ইউনিয়নগুলোর স্লুইসগেট খুলে দেওয়া হয়েছে।
সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায় উপজেলা প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণকক্ষ চালু রয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
এদিকে টানা বর্ষণে চকরিয়া পৌরসভার ভাঙ্গারমুখ উত্তর বিনামারা ও নিজপানখালী এলাকায় মাটি সরে গিয়ে পিডিবির দুটি বৈদ্যুতিক খুঁটি ট্রান্সফরমারসহ হেলে পড়েছে।
এতে গত তিন দিন ধরে ওই এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। হেলে পড়া খুঁটি যেকোনো মুহূর্তে উপড়ে পড়ে দুর্ঘটনার শঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।
অন্যদিকে, চকরিয়ার ফাঁসিয়াখালী থেকে মহেশখালীর মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর পর্যন্ত সংযোগ সড়কের নির্মাণকাজে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ম্যাক্স গ্রুপের অপরিকল্পিত মাটির বাঁধের কারণে ফাঁসিয়াখালী ও চিরিঙ্গা ইউনিয়নের অন্তত ছয়টি গ্রামে ভয়াবহ জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়।
পরে দুর্ভোগ থেকে বাঁচতে স্থানীয়রা বাঁধটি অপসারণ করে দেন।