
টানা ভারী বর্ষণে রাঙামাটির কাউখালী উপজেলায় পাহাড়ধসের ঝুঁকি দেখা দেওয়ায় ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে বসবাসরতদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিচ্ছে উপজেলা প্রশাসন।
বুধবার সকাল থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাজিব হোসেনের নেতৃত্বে প্রশাসনের একটি দল দুর্গম এলাকার ঘরে ঘরে গিয়ে বাসিন্দাদের আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান জানায়। ইতোমধ্যে ঘাগড়া আরটিএম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে অনেক পরিবার অবস্থান নিয়েছে।
উপজেলা প্রশাসন ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, পরিস্থিতি বিবেচনা করে আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে আরও অর্ধশতাধিক পরিবারের শতাধিক মানুষের আবাসনের প্রস্তুতি রাখা হয়েছে। পাশাপাশি উপজেলাজুড়ে সতর্কতামূলক মাইকিং করা হচ্ছে।
আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান নেওয়া মানুষদের জন্য শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও স্যালাইনের পাশাপাশি গরম খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। শিশুদের জন্য বিশেষ খাবার ও প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য মেডিকেল টিমও প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে ইউএনও রাজিব হোসেন জানান, পাহাড়ের ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে বসবাসরত অধিকাংশ পরিবারকে ইতোমধ্যে আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়েছে।
তিনি জানান, দুর্যোগের এই সময়ে নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই তাদের মূল লক্ষ্য। নিরাপদ স্থানে যাওয়ার জন্য মাইকিং করার পাশাপাশি প্রশাসন ঘরে ঘরে গিয়ে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করছে।
আশ্রয়কেন্দ্রে আসা মোছাম্মৎ মরিয়ম বেগম নামের এক নারী জানান, পাহাড়ের মাটি ধসে পড়ার আশঙ্কায় তারা আতঙ্কে ছিলেন। পরে প্রশাসনের লোকজন গিয়ে তাদের বুঝিয়ে আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে আসেন। সেখানে তারা খাবারসহ প্রয়োজনীয় সব সুবিধা পাচ্ছেন বলে জানান তিনি।