
টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি হচ্ছে। সাঙ্গু ও ডলু নদীর পানি বেড়ে ১৭টি ইউনিয়ন ও পৌরসভার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।
বন্যার পানি প্রবেশ করায় সাতকানিয়া আদালত ও উপজেলা পরিষদ চত্বরে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। পানি ঢুকে পড়ায় বুধবার আদালতের বিচারিক কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ ছিল।
সাতকানিয়া আদালতের অতিরিক্ত সরকারি কৌঁসুলি (এডিশনাল জিপি) মো. রাশেদুল ইসলাম জানান, আদালত চত্বর ও কক্ষে হাঁটুসমান পানি জমে যাওয়ায় স্বাভাবিক পরিবেশে বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনা সম্ভব হয়নি।
ডলু নদীর পানি বেড়ে উপজেলা পরিষদ চত্বরও প্লাবিত হয়েছে। প্রধান ফটকের সামনে হাঁটুসমান পানি জমে থাকায় কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সেবাগ্রহীতাদের চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে।
এদিকে বুধবার সকাল থেকে বাজালিয়া চৌধুরী পাড়া এলাকায় সাঙ্গু নদীর বেড়িবাঁধের দুই ফুট ওপর দিয়ে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করছে। ১৯৯৭ ও ২০২৩ সালের বন্যায় এই স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছিল। পরে সেখানে আরসিসি গাইড ওয়াল নির্মাণ করা হলেও দুই ওয়ালের মাঝখানে কিছু অংশ খালি রাখা হয়। ওই খালি অংশে বাঁধ ভেঙে ভয়াবহ বন্যার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
সাঙ্গু ও ডলু নদীসহ বিভিন্ন খাল-বিলের পানি দ্রুত বেড়ে বাজালিয়া, এওচিয়া, ছদাহা, কেঁওচিয়া, খাগরিয়া, ঢেমশা, চরতী, সোনাকানিয়া, আমিলাইষ ও পশ্চিম ঢেমশাসহ বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলে প্রবেশ করেছে।
কেরানীহাট-বান্দরবান সড়কের সত্যপীর মাজার এলাকায় পানি ওঠায় যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। করাইয়া নগর সাতকানিয়া সদর সড়কের সরকারি কলেজের হোস্টেলের সামনে পানির স্রোতে সড়ক ভেঙে গেছে। নলুয়ার মরিচ্ছা পাড়াসহ অনেক এলাকার মানুষ যাতায়াতের জন্য নৌকা ব্যবহার করছেন।
বন্যার পাশাপাশি বুধবার সকাল থেকে সাতকানিয়ায় পল্লী বিদ্যুৎ ও পিডিবির বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকায় ভোগান্তি বাড়ে। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় মোবাইল নেটওয়ার্ক, ইন্টারনেট সেবা, বিশুদ্ধ পানির সংকট এবং চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হয়। তবে বিকেলে বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনরায় স্বাভাবিক হয়।
কৃষি খাতেও বন্যার নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। বাজালিয়া ইউনিয়নের কৃষক মোহাম্মদ আবুল হোসেন জানান, আমনের বীজতলা ও সবজিখেত তলিয়ে গেছে। ছদাহার মৎস্যচাষি মো. রাশেদুল ইসলাম জানান, পানি বাড়লে ঘের ভেঙে মাছ ভেসে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বাজালিয়া ইউনিয়নের বড়দুয়ারার বাসিন্দা জামাল উদ্দিন এবং নলুয়া ইউনিয়নের মরফলার সাবের আহমেদ জানান, পানিবন্দি মানুষ পরিবার নিয়ে কষ্টে আছেন। অনেকেই আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন এবং বিশুদ্ধ পানির সংকটে ভুগছেন।
সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খোন্দকার মাহমুদুল হাসান জানান, প্রশাসন সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। বুধবার সকাল থেকে বন্যাকবলিত এলাকাগুলো পরিদর্শন করা হয়েছে। পাহাড়ি এলাকার ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো থেকে বাসিন্দাদের সরে যেতে মাইকিং করা হচ্ছে।