সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

ঢল ও জোয়ারে বেড়িবাঁধ ভেঙে পেকুয়ায় ভয়াবহ বন্যা

পেকুয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি | প্রকাশিতঃ ৯ জুলাই ২০২৬ | ১০:২৩ অপরাহ্ন


টানা বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল ও জোয়ারের তোড়ে কক্সবাজারের পেকুয়ায় মাতামুহুরী নদীর মেহেরনামা অংশের বেড়িবাঁধ ভেঙে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

উপজেলার মেহেরনামা এলাকায় বেড়িবাঁধের দুটি অংশ ভেঙে লোকালয়ে পানি ঢুকে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এতে প্রায় লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।

বৃহস্পতিবার পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বন্যা পরিস্থিতির এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বুধবার রাতভর মেহেরনামা এলাকার বেড়িবাঁধ রক্ষায় শত শত মানুষ স্বেচ্ছাশ্রমে বালুর বস্তা ফেলেন। কিন্তু ভোরে জোয়ারের তীব্র স্রোতে বাঁধের দুটি অংশ ভেঙে মুহূর্তের মধ্যেই আশপাশের গ্রামগুলোতে পানি প্রবেশ করে।

বন্যায় উপজেলার উজানটিয়া, রাজাখালী, মগনামা, টৈটং, শিলখালী, বারবাকিয়া ও সদর ইউনিয়নের অনেক এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে।

বেড়িবাঁধ ভাঙার ফলে ঘরবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ, বাজার, রাস্তাঘাট, মাছের ঘের এবং বিস্তীর্ণ কৃষিজমি প্লাবিত হয়েছে। অনেক এলাকায় কোমর থেকে বুকসমান পানি জমে থাকায় মানুষ ঘরবন্দি হয়ে পড়েছেন।

নৌকা ছাড়া এসব এলাকায় যাতায়াত প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি পানিবন্দি মানুষের মধ্যে বিশুদ্ধ পানি, শুকনো খাবার, শিশুখাদ্য ও প্রয়োজনীয় ওষুধের চরম সংকট দেখা দিয়েছে।

অনেক পরিবারের রান্নাঘর পানিতে ডুবে যাওয়ায় রান্না করাও সম্ভব হচ্ছে না। এতে শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ ব্যক্তিরা সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম জানান, পেকুয়ায় তিনটি পাহাড়ি ও তিনটি উপকূলবর্তী ইউনিয়ন থাকায় পাহাড়ি ঢল এবং জোয়ারের পানিতে এই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে।

ঝুঁকিপূর্ণ স্থান থেকে ইতিমধ্যে লোকজনকে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে এবং সরকারি ত্রাণ বিতরণের ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে তিনি জানান।

এদিকে বৃষ্টি ও উজানের ঢল অব্যাহত থাকলে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতির আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। দ্রুত বেড়িবাঁধ সংস্কার করা না হলে জোয়ারের পরবর্তী ঢলে নতুন এলাকা প্লাবিত হতে পারে বলে তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।