সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

পানিবন্দি চট্টগ্রামে উদ্ধার তৎপরতায় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নজর

একুশে প্রতিবেদক | প্রকাশিতঃ ১০ জুলাই ২০২৬ | ৩:২৫ অপরাহ্ন


চট্টগ্রাম অঞ্চলের বন্যা ও আকস্মিক প্রাকৃতিক দুর্যোগ পরিস্থিতি সরাসরি পর্যবেক্ষণ করছেন প্রধানমন্ত্রী। দুর্যোগ মোকাবিলা এবং দুর্গতদের সহায়তায় তিনি প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও বিএনপির নেতা-কর্মীদের সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন।

শুক্রবার দুপুরে নিজের ফেসবুক পোস্টে এসব তথ্য জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তাঁর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন।

টানা ভারী বর্ষণে চট্টগ্রাম অঞ্চলে সৃষ্ট বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এই উপদেষ্টা। তিনি জানান, ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে মানবিক ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে নিয়মিতভাবে ডিসি, ইউএনও এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।

মাহ্দী আমিন জানান, দলমতের ঊর্ধ্বে উঠে বিএনপির সকল পর্যায়ের নেতা-কর্মীকে মাঠপর্যায়ে সক্রিয় থেকে সহায়তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। একইসঙ্গে স্থানীয় প্রশাসন ও সংসদ সদস্যদের সমন্বিতভাবে কাজ করতে বলা হয়েছে।

চট্টগ্রাম বিভাগের দুর্যোগকবলিত এলাকায় এক হাজার ৫৭টি আশ্রয়কেন্দ্র চালু করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে ইতিমধ্যে ১২ হাজারের বেশি মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন।

জেনারেল রিলিফ বা জিআর কর্মসূচির আওতায় ক্ষতিগ্রস্ত পাঁচ জেলার জন্য ত্রাণ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। জেলাগুলো হলো চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান।

দুর্গত মানুষের জন্য দুই কোটি ১৫ লাখ টাকা এবং তিন হাজার ৪৫০ মেট্রিক টন চাল সরাসরি পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

সরকারের নির্দেশনায় দুর্গত এলাকায় নিরাপদ খাবার পানি, স্যানিটেশন ব্যবস্থা, স্বাস্থ্যসেবা এবং শিশুখাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে। পাশাপাশি তিন বেলা খাবার সরবরাহেরও ব্যবস্থা করা হয়েছে।

পাহাড়ি এলাকায় উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি সেনাবাহিনীও মোতায়েন করা হয়েছে।

মাহ্দী আমিন আরও জানান, ভারী বর্ষণ, বন্যা ও ভূমিধস পরিস্থিতির কারণে দুর্গত এলাকায় এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।

স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জনপ্রতিনিধিরা দুর্গত এলাকায় সার্বক্ষণিক অবস্থান করছেন। তারা দুর্যোগে হতাহতদের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে প্রধানমন্ত্রীর সমবেদনা জানাচ্ছেন।

ভবিষ্যতে জলাবদ্ধতার ঝুঁকি কমাতে চট্টগ্রাম-দোহাজারী রেলপথ পাঁচ ফুট উঁচু করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলেও জানান মাহ্দী আমিন।