সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

মিরসরাই ট্র্যাজেডির ১৫ বছর, আজও কাঁদে ৪৫ পরিবার

এম মাঈন উদ্দিন | প্রকাশিতঃ ১১ জুলাই ২০২৬ | ১০:৩৯ পূর্বাহ্ন


ফুটবল খেলা দেখে গাদাগাদি করে ট্রাকে ফেরার পথে চালক নিয়ন্ত্রণ হারালে ডোবায় পড়ে যায় গাড়িটি। এতে মুহূর্তেই ৪৫ জনের মৃত্যু হয়। মর্মান্তিক এই মিরসরাই ট্র্যাজেডির ১৫ বছর পূর্ণ হলো আজ।

২০১১ সালের ১১ জুলাই চট্টগ্রামের মিরসরাই স্টেডিয়ামে বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গমাতা গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের খেলা ছিল। খেলা শেষে একটি মিনি ট্রাকে করে আবুতোরাবে ফিরছিলেন শিক্ষার্থীরা।

বিকেলে উপজেলার আবুতোরাব সড়কের সৈদালী এলাকায় পৌঁছালে ট্রাকটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশের ডোবায় উল্টে যায়। স্থানীয়রা দ্রুত উদ্ধারকাজ শুরু করলেও পিকআপের নিচে আটকে পড়া ৪৫ জনের মৃত্যু হয়।

নিহতদের মধ্যে আবুতোরাব উচ্চ বিদ্যালয়ের ৩৪ জন, আবুতোরাব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৪ জন এবং আবুতোরাব ফাজিল মাদ্রাসার ২ জন ছিলেন। এছাড়া প্রফেসর কামালউদ্দিন চৌধুরী কলেজের ২ জন, একজন অভিভাবক ও দুজন ফুটবলপ্রেমী যুবক নিহত হন।

দুর্ঘটনার পর নিহতদের পরিবারকে সান্ত্বনা দিতে ছুটে আসেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া।

দুর্ঘটনায় নিহত এক শিক্ষার্থীর বাবা নিজাম উদ্দিন জানান, তার একমাত্র সন্তানকে ডাক্তার বানানোর স্বপ্ন ছিল। তিনি অভিযোগ করেন, দিবসটি এলে শুধু রাজনৈতিক ব্যক্তি ও স্কুল কর্তৃপক্ষ ফটোসেশন এবং আলোচনা সভায় সীমাবদ্ধ থাকেন।

নিহত শিক্ষার্থী নয়ন শীলের মা জানান, ১৫ বছর পেরিয়ে গেলেও তার কাছে আজও সেই দিনটি শেষ হয়নি।

স্থানীয় সমাজকর্মী শহিদুল ইসলাম রয়েল বলেন, শিক্ষার্থী পরিবহনে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমেই নিহতদের প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা জানানো সম্ভব।

নিহতদের স্মৃতি সংরক্ষণে আবুতোরাব উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রবেশমুখে ‘আবেগ’ এবং দুর্ঘটনাস্থল সৈদালীতে ‘অন্তিম’ নামে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হয়েছে।

দিবসটি উপলক্ষে আবুতোরাব বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় পবিত্র কোরআন খতম, স্মৃতিস্তম্ভগুলোতে পুষ্পস্তবক অর্পণ, শোক সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করেছে। মিরসরাই উপজেলার মায়ানী ও মঘাদিয়া ইউনিয়নের স্বজন হারানো পরিবারগুলো আজও এই শোক বহন করছে।