
টানা ভারী বর্ষণের পর চট্টগ্রামে বৃষ্টির তীব্রতা কিছুটা কমলেও বন্যা পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয়নি। বিশেষ করে বাঁশখালী উপজেলার উপকূলীয় ইউনিয়নগুলো থেকে পানি নামছে না। ফলে সুপেয় পানির তীব্র সংকট এবং পানিবন্দী অবস্থায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন হাজারো মানুষ।
শুক্রবার বিকেলে বাঁশখালীর আসহাব উদ্দিন সড়ক হয়ে মোশাররফ আলী পর্যন্ত প্রায় আট কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বন্যাদুর্গত মানুষের নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছোটার চিত্র দেখা যায়। কারও কোলে শিশু, কারও সঙ্গে গবাদিপশু। বাহারছড়া ইউনিয়ন ঘুরে দেখা যায়, এলাকার কোথাও কোমর, আবার কোথাও হাঁটুপানি।
বাহারছড়া ইউনিয়নের একটি সড়কে কথা হয় গৃহবধূ রুনা আক্তারের সঙ্গে। তিনি তার শিশু ছেলেকে নিয়ে সাত কিলোমিটার দূরের গুনাগুরি এলাকায় এক স্বজনের বাড়িতে যাচ্ছিলেন।
তিনি জানান, ঘরে কোমরসমান পানি হওয়ায় তিনি সেখানে যাচ্ছেন। তার বৃদ্ধ শাশুড়িকে স্বামী আগেই গুনাগুরিতে নিয়ে গেছেন।
উপকূলের কাছের ইউনিয়নগুলোতে পানি না নামায় বাসিন্দারা আশ্রয়কেন্দ্র ও স্বজনদের বাড়িতে উঠছেন। তবে ঘরের মালামাল পাহারার জন্য পুরুষ সদস্যরা বাড়িতেই থাকছেন।
গত শুক্রবার বাহারছড়া ইউনিয়নে বন্যার পানিতে ডুবে দুই শিশুসহ তিনজনের মৃত্যু হয়।
সার্বিক বিষয়ে বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রুহুল আমিন জানান, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ৪৪ টন চাল ও আড়াই হাজার পরিবারে শুকনা খাবার বিতরণ করা হয়েছে। এখন থেকে সেনাবাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে ত্রাণ ও উদ্ধার তৎপরতা চালানো হবে।
অন্যদিকে, পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার সকাল ৯টা থেকে শনিবার সকাল ৯টা পর্যন্ত চট্টগ্রামে ২১ দশমিক ৩ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড হয়েছে।
পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ সুমন সাহা বলেন, মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় বৃষ্টির প্রবণতা অব্যাহত থাকবে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, চট্টগ্রামের আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকতে পারে এবং দমকা হাওয়াসহ বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
এর আগে ৪ জুলাই থেকে শুক্রবার সকাল ৬টা পর্যন্ত সাত দিনে চট্টগ্রামে মোট ১ হাজার ১৬৯ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম বিভাগীয় প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, দুর্যোগকবলিত এলাকায় ১ হাজার ৫৭টি আশ্রয়কেন্দ্র চালু রয়েছে এবং সেখানে ১২ হাজারের বেশি মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন।