সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

বন্যায় ডুবে গেল পরীক্ষার স্বপ্ন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় নীরব

এইচএসসি স্থগিত, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা চলছেই
এম মোয়াজ্জেম হোসেন কায়সার | প্রকাশিতঃ ১১ জুলাই ২০২৬ | ১০:৫৩ অপরাহ্ন


দুই মাসের শিশু কোলে নিয়ে মাহিমা জিন্নাত বের হয়েছিলেন পরীক্ষা দিতে। রাউজান থেকে চট্টগ্রাম শহর- পথটা বেশি দূর নয়। কিন্তু গত বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাস্তায় কোমরসমান পানি। কোনো যানবাহন নেই। শিশুসন্তানকে বুকে আঁকড়ে ধরে দাঁড়িয়ে রইলেন। পরীক্ষাকেন্দ্রে আর পৌঁছানো হলো না। ইতিহাস বিভাগের এই প্রিলিমিনারি টু মাস্টার্স পরীক্ষার্থী সেদিন বুঝলেন, বন্যা শুধু ঘরবাড়ি ডোবায় না, স্বপ্নও ডোবায়।

মাহিমা একা নন। চট্টগ্রামজুড়ে শত শত পরীক্ষার্থী একই পরিস্থিতির শিকার।

এইচএসসি স্থগিত, কিন্তু জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় চলছেই

টানা বৃষ্টি আর বন্যায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ির এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা ১৬ জুলাই পর্যন্ত স্থগিত করেছে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড। মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডও বুধবার ও শনিবারের পরীক্ষা বাতিল করেছে। কারণ একটাই- বন্যার মধ্যে শিক্ষার্থীদের জীবন ঝুঁকিতে ফেলা যায় না।

কিন্তু জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় সেই বিবেচনায় নেই। ৯ জুলাই থেকে শুরু হওয়া প্রিলিমিনারি টু মাস্টার্স পরীক্ষা পূর্বঘোষিত রুটিন ধরেই চলছে। বন্যা, জলাবদ্ধতা, যানবাহন সংকট- কিছুই আমলে নেওয়া হয়নি। ফলে পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছাতে না পেরে নিয়মিত ও প্রাইভেট উভয় শ্রেণির বহু পরীক্ষার্থী পরীক্ষার সুযোগ হারিয়েছেন।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক তাইয়েবা তাসনীম সিরাজ একুশে পত্রিকাকে জানান, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের দপ্তর থেকে স্থগিতের কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি। সিদ্ধান্ত এলে জানানো হবে।

শনিবার রাত পর্যন্ত ওয়েবসাইটে কোনো ঘোষণা ছিল না। আগামীকাল ১২ জুলাইয়ের পরীক্ষা নিয়েও একই অনিশ্চয়তা।

ঘাট পার হতে পারেননি লাখী, ফোনে সমাধান পাননি রিফাত

কুতুবদিয়ার বাসিন্দা লাখী দাশের পরীক্ষাকেন্দ্র ছিল চট্টগ্রাম সরকারি মহিলা কলেজে। পরীক্ষার দিন প্রচুর বৃষ্টি। ঘাট পার হওয়ার চেষ্টা করলেন সারাদিন। পারলেন না। চট্টগ্রাম কলেজের এই প্রাইভেট পরীক্ষার্থী সেদিন আর পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছাতে পারেননি।

একই কলেজের অর্থনীতি বিভাগের প্রাইভেট পরীক্ষার্থী রিফাত উদ্দিন ভয়াবহ বন্যায় পরীক্ষা দিতে যেতে পারেননি। সমাধানের আশায় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে দেওয়া ই-মেইল ও ফোন নম্বরে যোগাযোগ করেছিলেন। কিন্তু কোনো সাড়া মেলেনি।

এই তিনজনের গল্প আসলে শত শত পরীক্ষার্থীর গল্প। যারা বন্যার মধ্যেও পরীক্ষা দিতে চেয়েছিলেন, কিন্তু প্রকৃতি আর প্রশাসনের উদাসীনতা মিলে তাদের সেই সুযোগ কেড়ে নিয়েছে।

এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা সরকারি সিদ্ধান্তে ঘরে বসে আছেন। আর মাস্টার্সের পরীক্ষার্থীরা বন্যার পানিতে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছেন- কখন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় তাদের কথাটুকু শুনবে।